ইস্তাহারে ব্রাত্য, হতাশ বিড়ি শ্রমিকরা

100

মালদা: ভোট বাক্সের কথা মাথায় রেখে সমস্ত রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনি ইস্তাহারে বাংলার মানুষকে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি সাড়ে তিনশো করা হবে বলেও অঙ্গিকার হয়েছে। অদ্ভুতভাবে ব্রাত্য রাখা হয়েছে বাংলার ১০ লক্ষেরও বেশি বিড়ি শ্রমিকদের। কোনও রাজনৈতিক দলের ইস্তেহারে বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা বলা হয়নি। এনিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন মালদা জেলার সাড়ে তিন লক্ষ বিড়ি শ্রমিক পরিবার।

রাজ্যে ১০ লক্ষ বিড়ি শ্রমিকদের মধ্যে মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা ৮ লক্ষেরও বেশি। মালদা জেলার কালিয়াচক, বৈষ্ণব নগর, মোথাবাড়ি, ইংরেজবাজার, মানিকচক, চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিড়ি তৈরির কাজ হয়। এই বিড়ি শ্রমিকদের সিংহভাগই মহিলা শ্রমিক। সরকারি দর ২০৪ টাকা হলেও বিড়ি কোম্পানির মালিকেরা মজুরি বাবদ ১৪২ টাকা শ্রমিকদের দিয়ে থাকেন। সংসারের কাজ সামলে একজন মহিলা দিনে ৫০০-র বেশি বিড়ি বাঁধতে পারেন না। তাতে বিড়ি বেঁধে দৈনিক রোজগার গিয়ে দাঁড়ায় ৭০-৮০ টাকা।

- Advertisement -

তাতে সংসার চালানো তো দূর ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ টুকুও উঠে আসে না। তাদের মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক নেতারা ভোট নিয়ে যায়। কিন্তু ভোট পর্ব শেষ হলেই কেউ ঘুরেও তাকান না বলে অভিযোগ। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, কোনও রাজনৈতিক দলের ইস্তাহারে জায়গা পায়নি বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা।