প্রসেনজিৎ সাহা  দিনহাটা : দিনহাটা শহরের বেশ কিছু দোকানে লেবেল ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে টম্যাটো সস, ঘি।ব্র‌্যান্ডেড পণ্যের তুলনায় লেবেলবিহীন পণ্যের দাম সস্তা হওয়ায় অনেকেই তা কিনছেন। যদিও ওই সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের গুণমান নিয়ে সন্দেহ থাকায় গ্রাহকদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে। দিনহাটা শহরের বিভিন্ন দোকানে এমন কিছু সস, ঘি বিক্রি হচ্ছে, যার লেবেলে লেখা রয়েছে সেটি ছয়মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা য়াবে। কিন্তু সেটির তৈরি ও প্যাকেজিংয়ে তারিখ উল্লেখ করা থাকছে না। সম্প্রতি খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সেই অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা দেখতে পান, বেশ কিছু ফাস্ট ফুডের দোকানে যে সসের বোতল রয়েছে, তাতে এরকম কোনো তারিখ নেই। এর ফলে আধিকারিকরা সেইসব সস ব্যবহার করতে বারণ করেন। ফাস্ট ফুড বিক্রেতারা তা মেনে নিলেও দেখা যাচ্ছে, শহরের অনেক দোকানে এধরনের সস, ঘি ক্রেতাদের সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দিনহাটা শহরের বাসিন্দা পিন্টু দেবনাথ বলেন, লেবেলবিহীন জিনিস বিক্রি রুখতে প্রশাসনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না করার কারণেই ব্যবসায়ীরা বারবার এরকম জিনিস বিক্রি করার সাহস পেয়ে যাচ্ছেন। বেশ কিছু দোকানে এরকম মশলার প্যাকেটও বিক্রি হচ্ছে। কখনও ভিনরাজ্যের, আবার কখনও লোকাল জিনিস বলে ব্যবসায়ীরা সেসব বিক্রি করছেন। কিন্তু লেবেল না থাকায় সেসব ব্যবহারের সময়সীমা যেমন জানা য়াচ্ছে না, তেমনি তা কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি- তাও মানুষের অজানা থেকে যাচ্ছে।

দিনহাটা শহরে লেবেলবিহীন খাদ্যদ্রব্য বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতিও উদ্বিগ্ন। দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, এধরনের খবর আমাদের কাছেও এসেছে। যারা এধরনের কাজ করছেন, সংগঠন তাদের সঙ্গে থাকবে না। কারণ, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার বিক্রি চরম অপরাধ। এবিষয়ে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিলে আমরা তা সমর্থন করব। দিনহাটা মহকুমা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক তাপস সরকার বলেন, আমরা বেশ কিছু ফাস্ট ফুডের দোকানে এধরনের সসের বোতল এবং মুদিখানা দোকানে এধরনের ঘি পেয়েছি। দোকানদারদের এসব বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও যারা এধরনের সামগ্রী বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।