ময়নাগুড়ি ও লাটাগুড়ি : গত কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোটো-বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছে। জল জমে সেই গর্ত আরও বড়ো হচ্ছে। ময়নাগুড়ির দিক থেকে শুরু করে ময়নাগুড়ি রোড, তিস্তা সেতু, পাহাড়পুর- সব এলাকাতেই রাস্তা খারাপ। অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি বিডিও অফিস মোড়, টেকাটুলি, ঝাঝাঙ্গি, হুসলুরডাঙ্গা, রানিরহাট মোড়, জলঢাকা, ঝুমুর হয়ে ধূপগুড়ি পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থা বেহাল। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ য়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। মাঝেমধ্যেই এই পথে য়ানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে যাত্রীদের অনেক দেরি হচ্ছে। নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ির চালক, সবার মধ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে এই ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কয়ে হাজার পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করে। বর্তমানে এই পথে চার লেনের রাস্তার কাজ চলছে। কিছু কিছু জায়গায় দুই লেনের রাস্তার কাজ হয়ে গিয়েছে। গাড়ির চালকদের বক্তব্য, বৃষ্টির জেরে রাস্তার অনেক জায়গায় পিচের চাদর উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে গিয়েছে। গত কয়েক দিনে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে পড়ার ফলে য়ানজট তৈরি হচ্ছে। নিত্যয়াত্রীদের বক্তব্য, জাতীয় সড়কের গুরুত্বের কথা বিচার করে খুব তাড়াতাড়ি রাস্তাটি সংস্কার করা উচিত। না হলে রাস্তাটির অবস্থা আরও খারাপ হবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বেহাল অংশগুলি চিহ্নিত করে সংস্কার করার জন্য দুটি দল আলাদাভাবে কাজ করছে। কিন্তু বৃষ্টির জন্য সংস্কার হওয়া অংশগুলিও বেহাল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, ওভারব্রিজ তৈরির জন্য লাটাগুড়ি নতুনপাড়া থেকে বন দপ্তরের বিচাভাঙ্গা বিট অফিস পার করে জঙ্গল পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ভেঙে ফেলায় সমস্যায় এলাকাবাসী। লাটাগুড়ির বিচাভাঙ্গা রেল ক্রসিংয়ে লাটাগুড়ি থেকে চালসাগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে য়ানজট কমানোর জন্য ওভারব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। গত বছরের শেষ থেকে এই ওভারব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিচাভাঙ্গা রেল ক্রসিং থেকে জাতীয় সড়কের দুপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার চওড়া করা হবে জাতীয় সড়ক। এর জন্য জাতীয় সড়কের দুপাশে মাটিও ফেলা হয়েছে এবং পুরোনো জাতীয় সড়কের ওপর থেকে পিচের আস্তরণ তুলে ফেলা হয়েছে। ফলে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে জাতীয় সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ। বর্ষা শুরু হতেই খানাখন্দে ভরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা কষ্টকর হয়ে উঠছে। প্রায় প্রতিদিনই এই পথে দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দা অথবা গাড়ির চালকরাই নন, লাটাগুড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও এই বেহাল সড়কের জন্য সমস্যায় পড়েছেন। লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব জানান, জাতীয় সড়কের এই বেহাল অংশ দিয়ে বহু পর্যটক যাতায়াত করেন।  বৃষ্টির সময় খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি রাস্তার গর্তে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যতদিন বৃষ্টি ছিল না ততদিন এই রাস্তায় ধুলোর সমস্যায় নাজেহাল ছিলেন তাঁরা। কিন্তু বর্ষাকালে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মাস চারেক হল রাস্তা তৈরি হচ্ছে না, অথচ রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত ব্যবস্থা চান তাঁরা।  জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের মালবাজারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার জানান, যেহেতু জাতীয় সড়কের ওই অংশটিতে আরওবি বিভাগ কাজ করছে, তাই সড়কের বেহাল অংশটি তারাই মেরামত করবে। আরওবি বিভাগের নর্থ জোনের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কল্যাণ রায় বলেন, য়ে গতিতে কাজ চলছে তাতে বেশিদিন এই সমস্যা থাকবে না। দ্রুত ওই বেহাল অংশটি সংস্কার হবে।