মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান, গ্রেপ্তার সুকি সহ সরকারের শীর্ষ নেতারা

148

ওয়েবডেস্ক: মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান। গ্রেপ্তার হলেন আং সান সুকি। সুকি গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন জল্পনা রটেছিল কয়েকদিন ধরেই। এদিন মায়ানমারের মিলিটারির অধীন টিভি চ্যানেল মিয়াওয়াডি টিভিতে ঘোষণা করা হয় যে এক বছরের জন্য দেশের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। সুকির পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে সরকারের একগুচ্ছ শীর্ষ নেতাকেও। ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সরকার-সেনার দ্বন্দ্বের জেরেই আং সান সুকিকে ক্ষমতা হারাতে হল বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার গভীর রাতে রাজধানীর দখল নেয় সেনা। সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তারা কেটে দিয়েছে। তাই মায়ানমারের রাজধানী নেপিটোয় ছিন্ন করা হয়েছে সব ফোন ও ইন্টারনেটের পরিষেবা। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ বেশ কিছু দেশ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি জানিয়েছেন, ‘যে আমরা উদ্বিগ বর্মায় যেভাবে সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে।’ সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলকে বদলানো বা মায়ানমারে গণতন্ত্র আসার পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করা হলে আমেরিকা তার বিরোধীতা করবে বলেও জানিয়েছে দিয়েছেন জো বাইডেনের মুখপাত্র।

- Advertisement -

গত নভেম্বরের ভোটের পর আজই শুরু হওয়ার কথা ছিল সংসদ। তার আগেই আটক করা হয় ৭৫ বছর বয়সী সুকিকে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অহিংস প্রতিবাদ করে জনপ্রিয় হন তিনি। তাঁর সংগ্রামের জেরেই শেষ হয় সামরিক রাজ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় দেশে। যদিও দেশে এখনও অনেকাংশে ক্ষমতা উপভোগ করে আসছিল সেনাও। কিন্তু সম্প্রতি হওয়া ভোটেও অধিকাংশ আসনে জয়ী হয় সুকির দল। কিন্তু সেনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। যদিও তার কোনও প্রমাণ সেনা দাখিল করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনও সেই অভিযোগ খণ্ডন করে। গত সপ্তাহেই সামরিক বাহিনীর তরফে বলা হয় যে তারা আইন মোতাবেক সংবিধান মেনে পদক্ষেপ করবেন। এরপর থেকেই সামরিক অভ্যুত্থানের জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু সামরিক বাহিনীর তরফে গত কাল ও পরশু বারবার বলা হয় যে সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সব আশঙ্কা সত্যি করেই ফের ডামাডোল শুরু হল দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে।

মায়ানমারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত মায়ানমারের ঘটনার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছে। দেশ সবসময়েই মায়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে যেকোনও পদক্ষেপকেই সমর্থন করে এসেছে। আমরা আশা করি আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্রুত ফিরে আসবে।