চালককে মাদক খাইয়ে টোটো ছিনতাই

159

রাজগঞ্জ ও ফাঁসিদেওয়া: দিনের বেলায় চালককে মাদক খাইয়ে টোটো নিয়ে পালাল এক দুষ্কৃতী। ঘটনার ১ দিন পর বিবস্ত্র অবস্থায় চালকের খোঁজ মিলেছে। অভিযোগ, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুর সংলগ্ন হাওদাভিটা এলাকায় চালককে অচেতন অবস্থায় ফেলে, দুষ্কৃতী টোটো নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই টোটো চালক তরিকুল ইসলাম (৩০) রাজগঞ্জের ফুলবাড়-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ধনতলার বাসিন্দা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ি এবং ঘোষপুকুর এলাকায় সমানভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘোষপুকুর ফাঁড়ির এলাকায় চালকের কাছ থেকে টোটো ছিনতাই হয়েছে। তাই বিষয়টি ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ দেখছে।

শনিবার রাতে ছিল করম পুজো। ওই দিন টোটো চালক ফুলবাড়ি এলাকা থেকে একজন যাত্রী তুলে ভাড়ায় যাওয়ার জন্য রাজি হন। এরপরই ওই চালক নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার রাতে ওই ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ ফাঁসিদেওয়া ব্লকের হাওদাভিটা এলাকা থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে। অচেতন অবস্থায় তাঁকে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিনই প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। রবিবার তারিকুলের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান বলে সূত্রের খবর।

- Advertisement -

তারিকুলের গরিব পরিবার। মালিকের টোটো খোয়ানোর পর ওর পরিবারের দিশেহারা অবস্থা। পরিবার সূত্রের খবর, স্ত্রী, ২ শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সংসার। মালিকের টোটো চালিয়ে কোনও রকমে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। এরমধ্যেই এমন ঘটনায় মনোবল হারিয়ে তারিকুল বলেন, শনিবার সকালে টোটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বেলা ১১টা নাগাদ অপরিচিত এক ব্যক্তি ফুলবাড়ি থেকে ঘোষপুকুর যাবে বলে তাঁর টোটো ভাড়া করেছিল। পথে ফুলবাড়ি সংলগ্ন মহানন্দা ব্যারেজ এলাকায় ওই ব্যক্তি টোটো চালককে চা খাওয়ায়। সেখান থেকে রওনা দিয়ে কিছুটা পথ যাওয়ার পর তরিকুল অসুস্থ বোধ করেন। এরপর চালককে যাত্রীর সিটে বসিয়ে, আরোহী টোটো চালাতে শুরু করে। কখন যে অচৈতন্য হয়ে পড়ে, তা তিনি বলতে পারেননি। যখন তাঁর হুঁশ ফিরেছে, তখন তিনি ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতাল ছিলেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, ঘোষপুকুরের হাওদাভিটা এলাকায় স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। তারিকুল সেই সময় বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপছিলেন। স্থানীয়রা জামা-প্যান্ট দিয়ে সাহায্য করেন। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়েছিলেন। ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, এখনও কোনও অভিযোগ হয়নি। পুলিশ যখন ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তখন চুরির কোনও অভিযোগ করেন নি। চালক যোগাযোগ করলে বিষয়টি দেখা হবে।