অ্যানড্রয়েড ফোন নেই, পড়াশোনা ছাড়ছে টোটো পড়ুয়ারা

মাদারিহাট : ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে পৃথিবীর আদিম জনজাতি টোটোদের বাস। মাদারিহাট থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে টোটোদের গ্রাম টোটোপাড়া। বর্তমানে সেখানে ৩৭২টি পরিবার রয়েছে। ২০১৯ সালের জনগণনায় টোটোদের জনসংখ্যা ১,৬০৮। এখানে একমাত্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে রয়েছে ধনপতি টোটো মেমোরিয়াল হাইস্কুল। বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। করোনা ভাইরাসের জেরে অন্য স্কুলের মতো এই স্কুলেও শুরু হয়েছে অনলাইনে পড়াশোনা। কিন্তু চরম আর্থিক সংকটের কারণে প্রচুর অভিভাবক অ্যানড্রয়েড ফোন কিনতে পারছেন না। ফলে মাঝপথে প্রায় অর্ধেক টোটো ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিশা ঘোষাল বলেন, অনলাইনে প্রায় অর্ধেক টোটো ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করতে পারছে না। তাদের অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন নেই। কেউ যেন মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে না দেয় সে ব্যাপারে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা জানান, এবার তিনি শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের যে অর্থ পেয়েছেন সেই টাকায় বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি করার জন্য বই কিনেছেন। তাঁর কাছে বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, মোবাইল কেনার মতো তাঁদের ক্ষমতা নেই। তাই ছেলেমেয়েদের অনলাইনে পড়াশোনা করাতে পারছেন না।

- Advertisement -

নবম শ্রেণির ছাত্রী রণিতা টোটো বলে, আমি পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু বাবা দিনমজুরি করে কোনওভাবে সংসার চালাচ্ছেন। এখন অনলাইনে পড়াশোনা চলছে। কিন্তু আমার অ্যানড্রয়েড ফোন নেই। রণিতার বাবা মুকরাম টোটো বলেন, এই মোবাইল কেনার মতো আর্থিক ক্ষমতা আমার নেই। নবম শ্রেণির আরেক ছাত্রী রেজিনা টোটোরও একই অবস্থা। তার বাবাও বলে দিয়েছেন পড়াশোনা আর চালাতে পারবেন না। এপ্রসঙ্গে বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলে আমি অবশ্যই চেষ্টা করব।