গোলমরিচ চাষ করে টোটোদের মুখে হাসি ফুটছে

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : একসময় কমলালেবু চাষ করে রোজগারের দিশা দেখেছিলেন টোটোরা। জেলা উদ্যান পালন দপ্তর থেকে ওই চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে কমলালেবু চাষ করে রোজগার তো দূরের কথা উলটে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল প্রচুর টোটো পরিবার। কারণ কমলালেবুর ফলন ভালো হলেও গুণগত মান যেমন খারাপ ছিল, তেমনি পাকার আগেই পোকা ধরে সব লেবু ঝরে পড়ত।

এবার কমলালেবু চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত সেইসব টোটো পরিবারের পাশে দাঁড়াল টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত। ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে ২০১৬ সালে প্রায় ৫০টি পরিবারকে গোলমরিচ চাষের সুযোগ করে দিয়েছিলেন প্রধান আশা এস বোমজান। সেই গোলমরিচ চাষ করেই কমলালেবু চাষের ধাক্কা সামলে এখন লাভের মুখ দেখছেন টোটোরা। গোলমরিচ চাষি মধুকর টোটো বলেন, আমাকে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ২৫০টি গোলমরিচের চারা দেওয়া হয়েছিল। এখন ফল ধরছে। প্রতি কিলোগ্রাম গোলমরিচের বাজারদর ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। তবে বাড়ি থেকে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কিলোগ্রাম দরে মহাজন এসে গোলমরিচ নিয়ে যায়। কমলালেবু চাষ করে অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। এবার গোলমরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পারছি। আরেক গোলমরিচচাষি বিনোদ টোটো বলেন, আমাকে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ২০১৬ সালে গোলমরিচের ৩০০টি চারা দেওয়া হয়েছিল। এখন ফল ধরা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আশা এস বোমজান বলেন, টোটোপাড়ায় কমলালেবু চাষ করে রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ। কারণ ফল পাকার আগেই পোকা ধরে কমলালেবু পড়ে যেত। এরপর রোজগারের বিকল্প পথ হিসেবে ৫০টি পরিবারকে গোলমরিচের চারা দিয়েছিলাম। এখন ফল ধরা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, একটি গাছ থেকে সর্বাধিক পাঁচ থেকে ছয় কিলোগ্রাম গোলমরিচ পাওয়া যায়। বাড়ির সুপারি গাছে এই গোলমরিচের লতাগুল্ম বেড়ে ওঠে।