রাস্তা দখল করে টোটোস্ট্যান্ডে অবাধে চলছে তোলাবাজি

358

শিলিগুড়ি : প্রায় প্রতিদিনই শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা দখল করে অবৈধ টোটোস্ট্যান্ড তৈরি হচ্ছে। শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের নাম করে তোলাবাজি হচ্ছে ওই টোটোস্ট্যান্ডগুলিতে। অভিযোগ, স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে গেলেই প্রতিদিন তোলাবাজদের ২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। কেউ দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে টোটো নিয়ে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ওই টাকা শাসকদলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির নামে তোলা হচ্ছে। অভিযোগ, ওয়েলফেয়ার ফান্ডের নামে টোটোচালকদের থেকে নেওয়া টাকায় পকেট ভরছে কিছু সুবিধাভোগীর। গোটা ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারির দাবি উঠেছে। পাশাপাশি শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে টাকা তোলায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনও ব্যবস্থা নিক চাইছেন টোটোচালকরা। তবে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কোনও স্বীকৃত ইউনিয়ন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দার্জিলিং জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি অরূপরতন ঘোষ। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি আমাদের টোটোর কোনও স্বীকৃত ইউনিয়ন নেই। কেউ আমাদের শ্রমিক সংগঠনের নামে টাকা তুললে টোটোচালকরা সরাসরি থানায় অভিযোগ জানাক। আমরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলব। শহরের অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) পূর্ণিমা শেরপা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিলিগুড়ির প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবৈধ টোটোস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। শহরের হিলকার্ট রোড থেকে শুরু করে বিধান রোড, মহাবীরস্থান, কোর্ট মোড় সংলগ্ন এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ টোটোস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাস্তায় একাংশজুড়ে তৈরি হয়েছে টোটোস্ট্যান্ড। কোথাও কোথাও আবার পাশাপাশি দুটি স্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। প্রতিটি স্ট্যান্ডে নিত্যদিন টোটোচালকদের ওয়েলফেয়ারের নামে নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। কোনও চালক টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে ওই স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না। পাশাপাশি বাইরের কোনও চালক ওই স্ট্যান্ডের কাছে এসে দাঁড়াতেও পারবেন না। কোনও যাত্রী নিজের পরিচিত টোটো ডাকলে সেই টোটোচালককে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়ে যাত্রীদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের বাইরে আইএনটিটিইউসির দপ্তরের পাশে থাকা স্ট্যান্ডেও চালু রয়েছে একই প্রথা। বাইরের টোটোতে যাত্রীদের উঠতে তো দেওয়াই হবে না, বরং তারা যা ভাড়া দাবি করবে সেই ভাড়ায় টোটো নিয়ে যেতে হবে। গোটা শহরজুড়েই এই প্রক্রিয়া চলছে। এর জেরে অনেক টোটোচালককে যেমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তেমনই যাত্রীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অপরদিকে, যেখানে জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে রাস্তার একাংশ দখল করে স্ট্যান্ড তৈরি করা হলেও পুলিশ, পরিবহণ দপ্তর কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি- ভোটের অঙ্ক মেলাতে শিলিগুড়িতে টোটো নিয়ে এখনই কোনও ব্যবস্থা নিতে চাইছে না তৃণমূল। তার পরিণাম ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিষয়টি নিয়ে দার্জিলিংয়ের আরটিও সোনম লেপচার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -