চিলাপাতায় পর্যটন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে সংশয়

224

সুভাষ বর্মন, চিলাপাতা: ডুয়ার্সের কিছু এলাকায় পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু আলিপুরদুয়ারের চিলাপাতায় পর্যটকরা কবে আসবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ১৬ জুন থেকে তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চিলাপাতা বনাঞ্চল। তাই করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও চিলাপাতায় পর্যটকদের দেখা কবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সোমবার এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্ষার মরশুমে বনাঞ্চলের কোনও অংশ খোলা রাখা হোক। বাইরের পর্যটকরা এখানে আসতে চাইছেন। এই নিয়ে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বনবস্তির মানুষকেও সচেতন করার দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে বনদপ্তর সেরকম কোনও আশ্বাস দিতে পারেনি। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দাবি বন ও পর্যটন দপ্তরের শীর্ষ স্তরে জানানো হবে।’

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল চিলাপাতা। নলরাজার গড়ের ধ্বংসাবশেষের টানে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে আসেন। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া থেকেও পর্যটকরা চিলাপাতায় এসেছিলেন। এখানে জঙ্গল সাফারির জন্য রয়েছে ১৪টি গাড়ি। মেন্দাবাড়িতে রয়েছে জঙ্গল ক্যাম্প নামে একটি সরকারি লজ। চিলাপাতায় রয়েছে বন দপ্তরের একটি রেস্ট হাউস। বেসরকারি লজ ও হোমস্টের সংখ্যা ১৮। কিন্তু গত মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে চিলাপাতার পর্যটন ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভরা মরশুমের প্রায় তিন মাস কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা মার খায়। এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ডুয়ার্সের জলদাপাড়া সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। চিলাপাতার ব্যবসায়ী, গাইড, গাড়ির চালকরাও পর্যটকদের আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু এখন তিন মাস জঙ্গল বন্ধ থাকলে পর্যটকরা এসে কোথায় ঘুরবেন তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। আবার বাইরের পর্যটকরা আসলে স্থানীয় বনবস্তির মানুষ কোনও সমস্যা তৈরি করবে কিনা তা নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। এদিকে, চিলাপাতায় এখনও চারটি লজে তপসিখাতা কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা রয়েছেন। এদিন সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে বৈঠকে বসেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

এদিন চিলাপাতার পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, ‘এখানে পর্যটকরা আসতে চাইছেন। এজন্য লজ, হোমস্টে, সাফারি গাড়ি কীভাবে স্যানিটাইজ করা হবে, সবরকমের সুরক্ষাবিধি কীভাবে অনুসরণ করতে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।’ তবে পর্যটকদের আসা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চিলাপাতা ইকো ট্যুরিজম সোসাইটির সভাপতি গণেশকুমার শা বলেন, ‘করোনার জেরে ভরা মরশুমে তিন মাসের ব্যবসা মার খেয়েছে। তিন মাসের জন্য আবার জঙ্গল বন্ধ থাকছে। বাইরের কিছু পর্যটক আসতে চাইছেন। কিন্তু জঙ্গল বন্ধ থাকলে তাঁরা এখানে এসে কী দেখবেন? এজন্য নলরাজার গড় এলাকায় পর্যটকদের ঘোরার অনুমতি দেওয়া হলে ভালো হয়৷’ স্থানীয় বনবস্তির মানুষের বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাইরের পর্যটকরা আসলে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য বনবস্তির মানুষকে আমরা ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বোঝাবেন।’ জঙ্গলের একাংশ খোলা রাখার দাবি প্রসঙ্গে চিলাপাতার রেঞ্জার সন্দিপ দাস বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। এটা সরকারি সিদ্বান্ত।’