পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : বালুরঘাটের সুগভীর ডাঙা অরণ্যে উন্নতমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। তাছাড়াও প্রশাসনের তরফে জেলা প্রশাসনিক ভবনে সৌন্দর্যায়ন ও জেলার ঐতিহ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের সহায়তায় এই কাজগুলি দ্রুত শুরু হতে চলেছে।

জেলা তথা বালুরঘাটের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন। সেই সব ইতিহাস বিজড়িত জায়গায় পথের দুর্গমতা কমাতে পারলে দেশ-বিদেশের ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। আবার শহরের অদূরেই রয়েছে গভীর বনাঞ্চল। যেখানে সঠিক পরিকাঠামো গড়ে তুললে পর্যটকদের কয়েকগুণ আনাগোনা বাড়বে। পাশাপাশি, শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রেযী খাঁড়ি সংস্কারের ফলে হতে পারে নৌকাবিহারে উপযুক্ত জলাধার। যদিও বর্তমান জেলাশাসকের তৎপরতায় এই খাঁড়ি প্রথমে সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে অজানা কারণে সেই কাজ থমকে যায়। ফলে এখনও তা ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এখন পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে ডাঙা অঞ্চলকে প্রশাসনের তরফে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিক মহাদ্যুতি অধিকারী জানান, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন বালুরঘাটে পর্যটনক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করতে চলেছে। প্রথম দফায় বিশেষত ডাঙা বনাঞ্চলের সৌন্দর্যায়নের দিকে নজর দেওয়া হবে। তাছাড়াও বালুরঘাট প্রশাসনিক ভবন চত্বরে একটি বিশেষ পর্যটন সুবিধার্থী ও প্রদর্শনী কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পর্যটন দপ্তরের তরফে কলকাতা থেকে একজন স্থপতিকে জেলায় পাঠানো হয়েছে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা খতিয়ে দেখার জন্য। জেলাশাসকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের উপস্থাপন এবং প্রকল্পের ক্ষেত্র পরিদর্শন করার জন্য তিনি জেলায় এসেছেন। এদিকে ইতিমধ্যেই পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে পর্যটন দপ্তরের স্থপতির সঙ্গে বালুরঘাটের ডাঙা ফরেস্ট প্রদর্শন করলেন জেলাশাসক নিখিল নির্মল। তার সঙ্গে ছিলেন একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।

প্রসাশনের তরফে জানানো হয়, ডাঙা বনাঞ্চল সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে উন্নতমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সেখানে অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে। পশু ও পাখি সংরক্ষণ, কচ্ছপ সংরক্ষণ, প্রজাপতি বাগান ও শৌচালয় তৈরি করা হবে। এই বিষয়ে জেলাশাসক নিখিল নির্মল বলেন, এদিন কলকাতার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডাঙা বন পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এই নিয়ে পর্যটন দপ্তরের প্রতিনিধিদল ও স্থপতির সঙ্গে সোমবার বৈঠক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক ভবনে পর্যটন সুবিধার্থী এবং প্রদর্শনী কেন্দ্র গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, বালুরঘাটের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই বালুরঘাটের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মারক নির্মাণ করা হবে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে। জেলার হস্তনির্মিত বস্তুর প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের এলইডি প্যানেল স্থাপন করা হবে। তাছাড়াও মূল শহরের কাছেই ডাঙা বন পুনর্নির্মাণ তথা সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে পর্যটকদের জন্য শৌচালয়, বিশ্রামাগার, সাইকেল স্ট্যান্ড, টিকেট কাউন্টার, ওয়াচ টাওয়ার, পাখিরালয়, কাঁচনির্মিত বড়ো অ্যাকোয়ারিয়াম, কচ্ছপ সংরক্ষণ কেন্দ্র, প্রজাপতি উদ্যান ও প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে। আগামীদিনে জেলা প্রশাসনের তরফে যা সিন্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জানানো হবে।