রাস্তা তৈরির কাজ চলছে, পর্যটনের নতুন ঠিকানা হবে তোদে-তাংতা

935

নাগরাকাটা : অবশেষে সড়কপথে জুড়ছে কালিম্পংয়ের গরুবাথান ব্লকের প্রত্যন্ত দুই পাহাড়ি গ্রাম তোদে ও তাংতা। এতদিন সেখানে পৌঁছনোর কোনো রাস্তাই সেই অর্থে ছিল না। এর ফলে প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে ডুযার্স লাগোয়া ওই দুই এলাকার চারশো পরিবার। পরোক্ষভাবে উপকৃতের সংখ্যা আরও দশ হাজার। বছরের অর্ধেক সময়ই বহির্জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম তাংতার শ’খানেক পরিবার ওই রাস্তার মাধ্যমে রুটিরুজির নতুন সংস্থান খুঁজে পাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা। গরুবাথানের বিডিও বিশ্বরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নযনের মাধ্যমে পাহাড়ি গ্রামগুলিতে পর্যটনের জোয়ার আসবে। এছাড়া স্বাস্থ্য পরিসেবা থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি পরিসেবাও বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ সহজ হযে উঠবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তাটি তৈরি করছে জিটিএ। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪ কোটি ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৭৭৮ টাকা। তোদের দাবাইখোলা থেকে তাংতা পর্যন্ত প্রস্তাবিত ওই রাস্তার দৈর্ঘ্য সাত কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই পাহাড় কেটে রাস্তার জন্য সমতল অংশ তৈরির কাজ শুরুও হয়েছে সেখানে।আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাস্তা পুরোদস্তুর ব্যবহারের উপযোগী হযে উঠবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। রাস্তা তৈরির কাজের এজেন্সীর পক্ষে লাকপা লামা বলেন, ‘যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে তাতে আশা করছি ছয় মাস পর আর তাংতাবাসীকে রাস্তার যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে না।

- Advertisement -

স্থানীয বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভুটান সীমান্তের তাংতা থেকে তোদে যাওয়ার রাস্তা স্বাধীনতার পর থেকে গড়েই ওঠেনি। পাহাড়ি যে পাকদণ্ডী বেয়ে সেখানকার পরিবারগুলিকে নেমে আসতে হয় সেটাও খানাখন্দ ও পাথরে ভরা। ওই পথেই তাংতাখোলা নামে একটি খরস্রোতা নদী রয়েছে।বছরের ছয়মাসই তাতে জল থাকে। বর্ষার সমযে অস্থায়ী পথও ধসের কারণে পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা পরিসেবা থেকে হাটবাজার সবেতেই দুর্ভোগের অন্ত থাকে না গ্রামবাসীদের। পাহাড়ি ঢালের এলাচ, গোল লংকা, কোয়াশ, আদা, রসুন, ফুলঝাড়ু ও জানা-অজানা অর্কিডের সম্ভারপূর্ণ ওই গ্রামে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটকদের পা পড়ে না।

গরুবাথান ব্লক প্রশাসনের কর্তারাও বলছেন, তাংতায় যে ৯০টি পরিবার বসবাস করে তাঁদের বাজারঘাটের মূল ভরসা রবিবার তোদের হাট। উৎপাদিত ফসল তাঁরা সেখানে বিক্রি করেন। আবার নিত্যপ্রয়োজনীয জিনিসপত্র ওই হাট থেকেই কিনে নিযে বাড়ি ফেরেন। রাস্তার সমস্যার কারণে রসদ সংগ্রহে এতদিন বিরাট সমস্যার মুখে ওই পরিবারগুলিকে পড়তে হত। সেটারও অবসান হতে চলেছে। খচ্চরের পিঠে চড়ে তাংতার বাসিন্দারা তোদের হাটে আসছেন এমন দৃশ্যও সেখানে দেখা যেত একসময়।

তাংতা গ্রামের থেনডুপ ভুটিযা নামে এক বাসিন্দা বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে থাকতে আমরা এখানে ক্লান্ত। নতুন রাস্তাকে তাই বেঁচে থাকার নয়া দিশা বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী। এজন্য জিটিএ ও রাজ্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। স্থানীয সূত্রেই জানা যাচ্ছে তোদে হযে তাংতাতে উৎসাহী পর্যটকদের কখনও সখনও আসতে দেখা যায়। রাস্তার কাজ পুরোপুরি শেষ হযে গেলে পর্যটকদের কাছে নতুন গন্তব্য হয়ে উঠবে এই এলাকা।  হোম স্টে বা ইকো ট্যুরিজমের প্রসার ঘটবে।

ছবি – পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে তোদে থেকে তাংতা যাওয়ার নতুন রাস্তা।

তথ্য ও ছবি- শুভজিৎ দত্ত