সানি সরকার, শিলিগুড়ি, ৬ মে : গুজরাট, কেরলের পথে হেঁটে এবার এই রাজ্যেও নতুন পর্যটন নীতি গৃহীত হতে চলেছে। ইতিমধ্যে খসড়া তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যটনের সঙ্গে জড়িত বিশিষ্টদের কাছ থেকে মত চাওয়া হয়েছে। ভোটপর্ব মিটলেই চূড়ান্ত নীতি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্যের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে পর্যটন মহল। পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে হাঁটছে রাজ্য।

পর্যটন মরশুম শুরু হলেই পর্যটন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া আদায় করা, চুক্তি অনুযায়ী সুযোগসুবিধা না দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না প্রশাসন। এই সমস্যার মূলেই রয়েছে পর্যটন নীতি না থাকা। গৌতম দেব রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী হওয়ার পর গত বছর এ ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু হয়। ৩৫ পাতার যে খসড়া নীতি তৈরি হয়েছে, তাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটকদের অত্যাধুনিক পরিসেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরের কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হয়েছে। ওই খসড়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ রক্ষা করে প্রত্যেকটি পর্যটনকেন্দ্রে মোটেল, থ্রি স্টার ক্যাটিগোরির হোটেল, সাধারণ রিসর্ট, জঙ্গল রিসর্ট, হিল রিসর্ট, যাত্রিকা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। হেরিটেজ হোটেলগুলির সংস্কারের প্রস্তাবও রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি রয়েছে হেলথ ফার্ম, স্পা, থিমভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র, অ্যাকোয়া পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ইকো পার্ক, ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেন, অর্কিড পার্ক, লেজার পার্ক, সায়েন্স সেন্টারের কথা। পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে রাজ্য যেমন আর্থিক বরাদ্দ বাড়াবে, তেমনই বেসরকারি বিনিয়োগের জন্যও দরজা খোলা থাকবে।

পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যেকটি পর্যটনকেন্দ্রকে অত্যাধুনিক এবং আকর্ষণীয় করে তোলার কথা বলা হয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট ভিলেজ তৈরি, ক্রাফট অ্যান্ড স্যুভেনির শপ, পরিবহণের উন্নতি, ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, রুরাল ট্যুরিজম, রিভার ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে তোলা, আয়ুর্বেদিক ও যোগা সেন্টার এবং অডিয়ো-ভিডিয়ো গাইড সার্ভিসের ওপর।

পর্যটকদের হেনস্তার মোকাবিলায় ওই খসড়ায় বেশ কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট রুট অনুসারে গাড়ি ভাড়া ঠিক করা, সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী হোটেলগুলিকে চিহ্নিত করা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার নিদানও রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে দেশের পর্যটনমন্ত্রকের নীতি অনুসরণ করা হযয়েছে। পাশাপাশি কেরল, গুজরাট, গোয়ার মতো রাজ্যগুলির পর্যটন নীতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। নজরে রাখা হয়েছে আইনি দিকগুলিও। পর্যটন দপ্তরের পদস্থ এক আধিকারিক জানান, সামান্য কয়েকটি সংশোধনের পর চূড়ান্ত পর্যটন নীতি তৈরির কাজ চলছে। নির্বাচনপর্ব মিটলেই তা বিধানসভায় পেশ হওয়ার কথা।

রাজ্যের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন। সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের পর্যটন উপদেষ্টা তথা হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা রাজ বসু বলেন, আমাদের রাজ্যে পর্যটন নীতি অত্যন্ত জরুরি ছিল। এরফলে ব্যাংয়ের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা পর্যটন সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করা যেমন সম্ভব হবে, তেমনই ব্যবস্থা নিতে পারবে প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত নীতিতে সংশোধনীর জায়গা যাতে থাকে, সেই প্রস্তাব রেখেছেন তিনি। রাজ্যের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন হিমালয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্রও।