পুজোয় লাভের আশা দেখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা

129

মালবাজার: সরাসরি পুজোর সঙ্গে ওরা কেউই যুক্ত নন। তবুও দুর্গাপুজোর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ওঁরা। লাভাগামী রাস্তার ধারে ছোট্ট দোকান মনিকা গুরুং-এর। সুস্বাদু মোমো ও কিছু জলখাবার তৈরি করেন। পাহাড়ের পর্যটকরা যাতায়াতের পথে খাওয়া-দাওয়া করেন। কিন্তু করোনার একের পর এক ঢেউয়ে এই ক্ষুদ্র জীবিকাতেও ভাটার টান। অন্যদিকে, পর্যটনকেন্দ্র সুনতালে খোলায় বাসিন্দা অবিনা প্রধান। চারাগাছ পর্যটকদের কাছে বিক্রি করেই সংসার চালান। লাভাতে  হোটেল চালান সঞ্জু হাজরা। আবার সমতলের টিয়াবনে ঝাঁ-চকচকে যুব আবাস গড়ে উঠেছে। করোনার জেরে যুব আবাস বুকিং ছিল স্তিমিত। প্রাক পুজোতে নতুন করে তৎপরতা যুব আবাসেও। এবার আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করেই ডুয়ার্সের থেকে শুরু করে পাহাড়ের পর্যটনের সঙ্গে যুক্তরা নতুন আশায় বুঁদ হয়ে আছেন।

শারদোৎসবকে কেন্দ্র করেই ডুয়ার্স, পাহাড় পর্যটনের চেনা ছন্দে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি-বেসরকারি পর্যটক আবাস কর্তৃপক্ষই নয়। শারদোৎসবের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গাড়িচালক সকলেই। লাটাগুড়ি ৩১ সি জাতীয় সড়কের পাশেই হস্তশিল্পের দোকান সামলান গৃহবধূ অনুরাধা দে। অনুরাধাদেবী বলেন, ‘আমাদের দোকানের ক্রেতা পর্যটকেরাই। করোনার জন্য গত দেড় বছর যাবৎ বিক্রি নেই বললেই চলে। শুনেছি এবারের পুজো কেন্দ্র করে পর্যটকদের ভালো বুকিং রয়েছে। আমরা ভালো বিক্রির আশায় রয়েছি।‘ ঝান্ডি পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত গাড়িচালক ফিরোজ মুখিয়া বলেন, ‘গাড়ি চালিয়ে আমাদের রুটি রুজি চলে করোনার সময়কালে পর্যটন থমকে যাওয়াতে আমরাও সমস্যায় পড়েছি।‘ এলাকার কলেজ পড়ুয়া তরুণ মৌরিস সুব্বা বলেন, ‘আমাদের পাহাড়ি জীবন কষ্টসাধ্য। এখানে জীবিকার সন্ধান করা কঠিন। আমরা তাই আমাদের এলাকাতেই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি।‘ মেটেলি ব্লক যুব কল্যাণ আধিকারিক অর্ণব ভট্টাচার্যের কথায়, আমাদের যুব আবাসে ৩৬টি ঘর রয়েছে। আমরা একযোগে ৮৭ জনকে এখানে থাকতে দিতে পারি। অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং হয়। এবার পুজোতে ভালো বুকিং রয়েছে।‘

- Advertisement -