চিলাপাতায় আসছেন পর্যটকরা, আশার আলো দেখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা

253
হুগলি থেকে চিলাপাতায় আসা পর্যটকরা।

সুভাষ বর্মন, চিলাপাতা: আনলক ২ পর্বে আলিপুরদুয়ারের চিলাপাতায় পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা অনলাইনে লজ বুকিং করে এখানে আসছেন। জঙ্গল বন্ধ থাকলেও চিলাপাতার আশপাশের মনোরম পরিবেশ দেখেই মুগ্ব হচ্ছেন পর্যটকরা। ধীরে ধীরে পর্যটকরা আসতে শুরু করায় আশার আলো দেখছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটকদের আসা, থাকা এবং ঘোরাফেরা-সবই হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। পর্যটন ব্যবসায়ীরাও সুরক্ষাবিধি মেনে সব কাজ করছেন।

গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে লকডাউন শুরু হতেই চিলাপাতার পর্যটন ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ে। ভরা মরশুমে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা মার খায়। বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে হতাশ হয়ে পড়েন এখানকার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে যুক্ত থাকা কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে লকডাউন শিথিল হতেই গত ১৬ জুন থেকে তিন মাসের জন্য চিলাপাতার জঙ্গল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে আরও দুশ্চিন্তায় পড়েন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জঙ্গলের একাংশ পর্যটকদের জন্য খোলা রাখার দাবি জানান।

- Advertisement -

সম্প্রতি বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়ও এখানে রাত্রি যাপন করলে তাঁর কাছেও ব্যবসায়ীরা একই দাবি জানান। কিন্তু এখনও জঙ্গলের কোনও অংশই পর্যটকদের জন্য খোলা হয়নি। তবে পর্যটন ব্যবসায়ীরা সেই অপেক্ষায় না থেকে বিকল্প কিছু স্থান চিহ্নিত করে নেন। চিলাপাতার জঙ্গলের পাশ দিয়ে চলাচলকারী রাস্তা, বানিয়া নদীর ধারে ‘মনের মানুষ’ সিনেমার শুটিং স্পট, বর্ষায় জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে কৃষিকাজকর্ম, তোর্ষা নদীর পাড় ইত্যাদি কিছু বিকল্প জায়গায় পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য ঠিক করা হয়। এইসব দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচার করা হয়। সেইসব দেখেই বাইরের পর্যটকরা চিলাপাতায় আসতে শুরু করেছেন।

সম্প্রতি হুগলি থেকে পাঁচ জন পর্যটক চিলাপাতায় আসেন। তাঁরা চিকিৎসকের দেওয়া শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার সার্টিফিকেট দেখিয়েই চিলাপাতার অর্কিড হোমস্টে দু’দিনের জন্য বুক করে এসেছিলেন। ওই হোমস্টের মালিক তথা চিলাপাতা জিপসি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, ‘যাবতীয় সুরক্ষাবিধি মেনেই পর্যটকদের ঘোরানো হচ্ছে। হোমস্টে, লজ, গাড়ি নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকরা চিলাপাতায় আসতে শুরু করায় আমরা কিছুটা আশার আলো দেখছি।’

চিলাপাতা ইকো টুরিজম সোসাইটির সভাপতি গণেশকুমার শা ও সম্পাদক দিলীপ ওরাওঁ জানান, এখানে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল। তারপর থেকে কিছু পর্যটক এসেছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনের মত পর্যটক চিলাপাতা ঘুরে গিয়েছেন। এভাবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আর্থিক ধাক্কা কিছুটা হলেও সামলানো সম্ভব হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।