গরুবাথানের বাগানে ফুল মুন প্লাকিংয়ে সাক্ষী হবেন পর্যটকরা

109

বিদেশ বসু, টুংলাবং (গরুবাথান) : পাহাড়ের ধাপে ছড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি চা বাগান আদর্শ মুনা। ঠিকানা-কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা টুংলাবং। এখানে প্রকৃতি কথা বলে। এবার দোলপূর্ণিমার রাতে এই চা বাগানে পাতা তোলা হবে। চা বাগানের পরিভাষায় যাকে বলে ফুল মুন প্লাকিং। তার তোড়জোড়ও চলছে বাগানে। আর চাঁদের আলোয় ভাসতে থাকা চা বাগানে পাতা তোলার সেই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরাও। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঠিকমতো প্রচার পেলে উত্তরবঙ্গের পর্যটনে নতুন আঙ্গিক যুক্ত হবে বলে আশাবাদী পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

তথ্য বলছে, দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত মকাইবাড়ি চা বাগানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফুল মুন প্লাকিংয়ে নাম। চাঁদের আলোয় বিশেষ মুহূর্তে তোলা মকাইবাড়ির চায়ের মূল্য আকাশছোঁয়া। বাকিংহাম প্যালেসেও এই চা স্থান করে নিয়েছিল। শীতের পর আবার নতুন করে চা পাতা তোলার মরশুম শুরু হলে পূর্ণিমার রাতে বিশেষ মুহূর্তে এই চা পাতা তোলা হয়। সেই চা পাতা প্রক্রিয়ার পর যে চা তৈরি হয় তা এককথায় দুর্মূল্য।

- Advertisement -

২০১৯ সালের ২১ মার্চ দোলপূর্ণিমাতেও আদর্শ মুনা চা বাগানে ফুল মুন প্লাকিং হয়েছিল। মকাইবাড়ি চা বাগানের প্রাক্তন মালিক রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেবার ফুল মুন প্লাকিং তদারকি করতে উপস্থিত ছিলেন। ২০২০-তে করোনার জন্য এই বাগানে ফুল মুন প্লাকিং করা হয়নি।

এবার আবার ওই বিশেষ সময়ে প্লাকিংয়ের  উদ্যোগ নিয়েছেন চা বাগানের মালিক খরকাবাহাদুর ছেত্রী ও সৈকত ঘোষ। সৈকতবাবু বলেন, আমরা ফুল মুন প্লাকিংয়ের মাধ্যমে সিলভার ইম্পিরিয়াল চা তৈরি করব। ২০১৯ সালে ভালোই দাম পেয়েছিলাম। এবার আমরা ফুল মুন প্লাকিং দেখার জন্য পর্যটকদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সৈকতবাবু বলেন, মুম্বই টি অ্যান্ড কফি অ্যাসোসিয়েশন আমাদের সহযোগিতা করছে। করোনা পরিস্থিতি ঠিক থাকলে অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারাও আমাদের প্লাকিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। আদর্শ মুনা চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুদ্ধপূর্ণিমাতেও আরেকবার ফুল মুন প্লাকিং করার চিন্তাভাবনাও আছে।

চা বাগানে বিশেষ মুহূর্তে পাতা তোলার সাক্ষী থাকতে পারেন পর্যটকরাও। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড টুরিজম আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, আমরাও আদর্শ মুনা চা বাগানের ফুল মুন প্লাকিংয়ে উপস্থিত থাকব। আমরা চাই, পর্যটকরা চাঁদের আলোয় পাহাড়ের ধাপে চা পাতা তোলার দৃশ্য দেখার অনাবিল আনন্দ উপভোগ করুন। পাহাড়ের পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন আঙ্গিকও সংযোজিত হবে।

আদর্শ মুনা চা বাগানে ফুল মুন প্লাকিংকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি রীতিনীতি মেনেই পূজার্চনা হবে। লোকসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। তারপর চাঁদের আলো উজ্জ্বল হলে চা পাতা তোলা হবে। মশালও জ্বালানো হবে। চাঁদের আলোয় চা বাগান পর্যটকদের টানবে, এই আশায় বুক বাঁধছেন প্রত্যন্ত নিমবস্তি, টুংলাবং এলাকার বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে আদর্শ মুনা চা বাগানের আশপাশে হোমস্টে তৈরির কাজ চলছে। ফার্দিন লেপচা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা হোমস্টে চালু করেছেন। স্থানীয়রাও দারুণ উৎসাহী। তাঁরা বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকায় পর্যটকরা আসুন। চা শিল্পের সঙ্গে পর্যটন যুক্ত হলে আমাদের সকলেরই সুবিধা হবে।