অস্তিত্ব টেকাতে পরীক্ষা দৌড়ই ভরসা টয়ট্রেনের

862

রাহুল মজমুদার, শিলিগুড়ি: কোভিড মহামারির জেরে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। ফলে নিজের গরিমা হারাতে বসেছে বিশ্বখ্যাত টয়ট্রেন। এই পরিস্থিতিতেও দার্জিলিং টয়ট্রেন নিয়ে নতুন কোনও ভাবনা নেই রেলের। অস্তিত্ব টেকাতে এখন ট্রায়াল রানই (পরীক্ষামলূক দৌড়) ভরসা খেলনা গাড়ির। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন উত্তর-পূর্ব সীমন্ত রেলের কর্তারা। প্রয়োজনে পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ টয়ট্রেন চালানোর ব্যাপারে রেলকে পরামর্শ দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন রেলকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জীব রায় বলেন, বর্তমান মহামারি পরিস্থিতিতে টয়ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা নিয়মিত ট্রেনের ইঞ্জিনের দেখভাল করছি। ট্রায়াল রান করানো হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত সকলে তার পরামর্শ দিক।

২০১৭ সালে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত পাহাড়ে টানা প্রায় ১০৭ দিন বন্ধ ছিল টয়ট্রেন। বছর তিনেক বাদে ফের পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব দরবারে খ্যাতি ধরে রাখাই ডিএইচআরের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর ১৪০ বছর উদযাপন করছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। গত ১৩৯ বছরে প্রচুর ঝড়ঝাপটা এলেও এই ধরনের অনিশ্চয়তা আগে আসেনি। কোভিড মহামারির জেরে ঠিক কবে চালানো হবে টয়ট্রেন সেই বিষয়ে রেলবোর্ডের তরফে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত ট্রায়াল রানের মাধ্যমেই পুরানো ঐতিহ্যবাহী স্টিম ইঞ্জিনগুলিকে সচল রাখার নির্দেশ এসেছে। সেইমতো মাসে দু’দিন টয়ট্রেনের ট্রায়াল রান চলছিল। কিন্তু এতে করে সব ইঞ্জিন সময়মতো দৌড় করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে একদিন করে টয়ট্রেনের পরীক্ষামলূক দৌড় করাবে উত্তর-পূর্ব র্সীমান্ত রেল।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, চলতি মাসের ৩০ তারিখ নতুবা সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ ফের পরীক্ষামলূক দৌড়ের কথা রয়েছে। সেইমতো ইঞ্জিন মেরামতি করে তৈরি করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি জংশন থেকে রংটং পর্যন্ত আপাতত পরীক্ষামলূক দৌড় চলবে। রংটংয়ের ওপরে পাহাড়ে ধসের জেরে টয়ট্রেনের লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বতর্মানে ডিএইচআর সেই ক্ষতি মেরামতির কাজ করছে। তাই রংটং পর্যন্তই পরীক্ষা দৌড় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে লাইন মেরামতির কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কাজ শেষ হলে পরবর্তী পরীক্ষা দৌড়ে রংটংয়ের থেকে ওপরে যাওয়ার কথা রয়েছে খেলনা গাড়ির।

এদিকে, প্রতিদিনের অভ্যাসবশত কু-ঝিকঝিক শব্দ না শুনতে পারায় মন খারাপ পাহাড়বাসীর। রংটংয়ের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্বর মিতেন ছেত্রীর কথা, শৈশব থেকে কু-ঝিকঝিক শব্দ শুনেই বড় হয়েছি। এর আগে ১০৭ দিন, এখন আবার এতদিন বন্ধ টয়ট্রেন। এখন আর পুরোনো সেই শব্দ শুনতে না পেরে মন খারাপ হয়।