গুগলের বিজ্ঞাপনে ছুটবে টয়ট্রেন

213
ফাইল চিত্র

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: বৃষ্টিভেজা পথ। ঘন সবুজে ঘেরা পাহাড়। তারই মাঝে আঁকাবাঁকা পথে ছুটে চলেছে টউট্রেনের স্টিম ইঞ্জিন। সেই ইঞ্জিনের কালো ধোঁয়া ও কুয়াশা যেন মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম সার্চইঞ্জিন গুগলের বিজ্ঞাপনে এবার এমনই দৃশ্য দেখবে গোটা বিশ্ব।

কার্সিয়াং থেকে দার্জিলিংয়ের পথে শেষ কবে স্টিমইঞ্জিন চলেছে। তা বলতে হলে বেশ কিছুক্ষণ ভাবতে হয় এখানকার বাসিন্দাদেরও। কারণ করোনা অতিমারিতে থমকে গিয়েছে টয়ট্রেনের চাকা। মরচে ধরেছে লাইনেও। যদিও সব ভুলে এখন ট্রেন চালানোর তোড়জোড়। সৌজন্যে গুগলের বিজ্ঞাপন।

- Advertisement -

সপ্তাহখানেক আগেই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে টয়ট্রেন ভাড়ার বন্দোবস্ত করেছিল ডিএইচআর। এরই মধ্যে প্রথম আবেদন জানায় বিশ্বের বৃহত্তম সার্চইঞ্জিন সংস্থা। দিন ছয়েকের মধ্যে মিলেছে অনুমতি পত্রও। বুধবারই গুগলের তরফে অনুমতি পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে লোকেশন রেইকি। শুটিংও শুরু হবে দু-তিনদের মধ্যে।

ডিএইচআর সূত্রে খবর, সুকনা থেকে কার্সিয়াং পর্যন্ত জঙ্গল ও পাহাড়ি পথেই শুটিংয়ের আবেদন জানিয়েছেন গুগল। কিন্তু কয়েকদিন আগেই তিনধারিয়ায় ধস নামায় ঝুলে পড়েছিল টয়ট্রেনের লাইন। আপাতত লাইন মেরামতি হলেও সেখানে ট্রেন চালাতে নারাজ রেল। সেইজন্য কার্সিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয়ট্রেনের লাইন এবং স্টেশনে শুটিংয়ের কথা জানানো হয় গুগলকে। এইব প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় গুগল।

এক দুদিন নয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শুটিং হবে ওই এলাকায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শনি-রবিবার থেকেই শুটিং শুরু হতে পারে। গুগলের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছেও গিয়েছে। অনলাইনের আবেদন শুরুর একসপ্তাহের মধ্যেই গুগলের মতো এত বড় একটি সংস্থা আবেদন জানানোয় স্বভাবতই খুশি রেল কর্তৃপক্ষ। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংগযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ বলেছেন, ‘গুগলের শুটিং করার জন্য আমাদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। আজ সেইমতো অনুমতি দেওয়া হয়েছে।‘

এতদিন শুটিংয়ের জন্য টয়ট্রেন কিংবা স্টেশন ভাড়া নিতে সশরীরে হাজির হয়ে আবেদন করতে হত মালিগাওঁয়ে। সেই প্রক্রিয়া বেশ জটিল ছিল। অপেক্ষাও করতে হয় বেশ কিছুদিন। সেইজন্য কিছুদিন আগে অনলাইন পোর্টাল চালু করে রেল। সেখানে প্রথম আবেদন জানায় গুগল। এরপরই গোটা প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় রেল। আবেদনকারীদের কার্সিয়াংয়ে ডিএইচআর-এর সদর দপ্তর থেকে অনুমতি পত্র সংগ্রহ করে নিতে বলা হয়।

এখন অপেক্ষা শুধু ট্রেন ছোটার।