ওঁরা দিনরাত রেললাইন ধরে হাঁটেন বলেই নিরাপদে ছোটে ট্রেন

31

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : জাবরাভিটায় অদ্ভুত এক জন্তুর দর্শন মিলেছিল। কিন্তু কয়েকমাস কেটে গেলেও জন্তুটির নাম এবং প্রজাতি সম্পর্কে তেমন কোনও ধারণা রপ্ত করতে পারেননি তারাচাঁদ রাম। জাবরাভিটা দিয়ে যাওয়ার সময় এখনও প্রত্যেকদিন জন্তুটিকে খোঁজেন তিনি। আসলে খোঁজাই তাঁর কাজ। তাঁর মতো আরও অনেকেরই। শীতের কনকনে ঠান্ডা বা বর্ষার মুষলধারার বৃষ্টি, ওঁরা হেঁটে চলেন লাইন ধরে। খুঁজে ফেরেন রেললাইনের মধ্যে কিছু পড়ে রয়েছে কি না, ফাটল ধরেছে বা নাট খুলে রয়েছে কি না, এমন নানা বিষয়। এমনকি বিস্ফোরক রয়েছে কি না, সেটাও দেখতে হয় ট্র‌্যাকম্যানদের। মূলত তাঁদের ভরসাতেই ছুটে চলে ট্রেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে যেতে হয় ওঁদেরও, প্রত্যেকদিন, দিনে কয়েকবার। যাত্রীদের যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিতে পারে ট্রেন, তার জন্যই মহম্মদ হায়দর, তারাচাঁদ রামদের কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে চলা। এই দুজন সপ্তাহে পাঁচদিন শিলিগুড়ি জংশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি জংশন পর্যন্ত রেললাইন ধরে হেঁটে চলেন। হাতে টর্চ এবং নানান যন্ত্রাংশের বোঝা। লাইনে ফাটল বা নাট ঢিলে থাকার বিষয়টি নজরে পড়লে তা মেরামত করার চেষ্টা করেন। সাধ্যির বাইরে হলে খবর দেন কাছে থাকা স্টেশন মাস্টারকে। খবর দেওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁদের কাজ শেষ হয়ে যায় না। যতক্ষণ ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের লোকজন না আসবেন, ততক্ষণ তাঁদের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কিন্তু এরই মধ্যে যদি ট্রেন চলে আসে? হায়দর বলেন, এর জন্যই তো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ট্রেন দেখলে বাজি ফাটাতে হয় তিনবার। পরপর তিনবার বাজির আওয়াজ পেলে চালক বুঝতে পারেন সামনে বিপদ রয়েছে। তিনি ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেন। স্টেশন থেকেও চালককে সতর্ক করে দেওয়া হয় বলে জানান তারাচাঁদ।

- Advertisement -

কিন্তু বিস্ফোরক চিহ্নিত করা বা তা নিষ্ক্রিয় করার মতো কোনও যন্ত্রই তাঁদের কাছে থাকে না। সন্দেহভাজন কিছু মনে হলে তাঁরা যোগাযোগ করেন কাছে থাকা স্টেশনের সঙ্গে। লাল ঝান্ডা লাগিয়ে দেন লাইনের দুই প্রান্তে, লাইন বরাবর। শিলিগুড়ি জংশনের সিনিয়ার সেকশন ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় কুমার বলেন, ওঁরা দিনরাত হাঁটেন বলেই ছুটে চলে ট্রেন। আপাতদৃষ্টিতে শুধু হেঁটে চলা মনে হলেও কাজটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।