১ হাজার টাকায় মিলছে জাল ট্রেড লাইসেন্স, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত কর্মী

121

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: হাতে হাতে আগাম এক হাজার টাকা দিলেই পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে অবাধে ব্যবসায়ীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে জাল ট্রেড লাইসেন্স। আর এই বেআইনি কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে উত্তর দিনাজপুরের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ জাল লাইসেন্স কান্ডে জড়িত বিন্দোল পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মী নিত্যরঞ্জন হাজরার বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত ব্যবসায়ী আবদুল সালেক। বিন্দোলের বিশরাইল গ্রামের ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আগাম এক হাজার টাকা দিয়েছিলাম ওই কর্মীকে।তারপর বুধবার আরও তিনশো টাকা দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করি। সেই লাইসেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ব্যবসার জন্য রায়গঞ্জের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ঋণের আবেদন করি। কিন্তু সেখানেই ওই ট্রেড লাইসেন্সটি জাল বলে ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষ দাবি করেন।’ তবে অভিযুক্ত কর্মী নিত্যরঞ্জন হাজরা অবশ্য বলেন, ‘তৃণমূলের এক কর্মী লাইসেন্স করতে বলেছিল।টাকার লেনদেন সেই কর্মীর সঙ্গে হয়েছিল।’ এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ বিডিও রাজু লামা বলেন, ‘পঞ্চায়েত কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জাল কারবার চক্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি ফরিদ বক্সের অভিযোগ, ওই সরকারি পঞ্চায়েত কর্মীর বিরুদ্ধে শুধু ট্রেড লাইসেন্সই নয় গরিবদের ঘর বিলি থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা বার্ধক্য ভাতা সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমরা এর আগে এই বিষয় নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের সঙ্গে এই সরকারই কর্মীর ওঠাবসা বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগারওয়াল বলেন, ‘কোনও পঞ্চায়েত কর্মী যদি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয় তবে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে বলবো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

- Advertisement -