পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

476

চালসা: দীর্ঘ লকডাউনের পর ডুয়ার্সে খুলে গিয়েছে রিসোর্ট এবং বেসরকারি বাংলো। তা সত্ত্বেও দুশ্চিন্তার মেঘ কাটছে না পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কারণ, এখনও পর্যন্ত পর্যটক আসা শুরু হয়নি বলে খবর। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, করোনার আতঙ্কে পর্যটকরা এখনও ডুয়ার্স মুখি হচ্ছেন না। হাতে গোনা যে ক’জন আসছেন, তাঁরা গাড়ি করে মূর্তি অথবা পাহাড় ঘুরে দিনে দিনে ফিরে যাচ্ছেন। রাত্রিযাপনের সাহস দেখাচ্ছেন না কেউই। তাছাড়া, গত ১৫ জুন থেকে তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে গরুমারার ভিতরের সকল নজর মিনার। এরকম পরিস্থিতিতে পর্যটকদের আকর্ষিত করতে একটু অন্যরকম চিন্তাভাবনা করছেন পর্যটন ব্যাবসায়ীরা।

তাঁদের মধ্যে মেটেলি ব্লকের মাথাচুলকার রহমান ফার্ম হাউস নানান গ্রাম্য ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কৃত্রিম ভাবে আদি গ্রাম্য সভ্যতার একাধিক প্রথা,ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধান থেকে চাল তৈরি, ঢেকির মাধ্যমে আটা তৈরি করা, সরিষা থেকে তেল বের করার মতো একাধিক দৃশ্য ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়েছে। এমনকি, কৃত্রিম পুকুর থেকে মাছ ধরে তা রান্না করে খাওয়ার দৃশ্যকেও সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে।

- Advertisement -

এছাড়াও, ফার্ম হাউসে রয়েছে, গোটারি ফার্ম, মুরগি পালন কেন্দ্র, বিদেশি পাখি। জৈব সার প্রয়োগ করে বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে। আর এ সব কিছুই থাকছে রিসোর্টের ভিতরে।তিন দিকে কুর্তি নদী একপাশে চা বাগান এবং তার পাশেই রয়েছে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের অংশ। স্বাভাবিক ভাবে পর্যটকদের আকর্ষিত করতে যথেষ্ট পরিবেশ রয়েছে এখানে। এই ফার্ম হাউসের সীমানার মধ্যেই করা হয়েছে গোটারি ফার্ম, মুরগি ফার্ম এবং মাছ ধরার ব্যবস্থা। পর্যটকরা নিজেরা পুকুরে মাছ ধরে সেই মাছ রান্না করেও খেতে পারবেন এখানে। এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত, বিলাসবহুল থাকার ঘরের পাশাপাশি গ্রাম্য পরিবেশ এবং এখানকার মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের আনন্দ দেবে এমনটাই দাবি ফার্ম হাউসের মালিক শেখ জিয়াউল রহমানের।

তিনি বলেন, লকডাউনের পর পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ। পর্যটকরা এখানে গ্রাম্য ও মুক্ত পরিবেশে ঘুরতে পারবে। সব কিছুই তারা নিজ হাতে করতে পারবে। এর জন্যই গ্রাম্য ছবি তুলে ধরা হয়েছে এই ফার্মে। করোনার আতঙ্ক কাটাতে এখানে প্রয়োজনীয় সাস্থ্যবিধিরও বাবস্থ্যা করা হয়েছে।পর্যটকরা এখানে নির্দ্বিধায় আসতে পারেন বলে তিনি জানান।

ওই ফার্মে আসা এক পর্যটক জানান, ফার্ম হাউসের পরিবেশ সত্যিই উপভোগ্য। এখানে এসে মুক্ত বাতাস ও গ্রাম্য পরিবেশ পেয়েছি।অন্য পর্যটকদের কেও এখানে আসার আবেদন জানান তিনি।