পুজোর মুখে আর্থিক সংকটে ধুঁকছেন বীরপাড়ার ব্যবসায়ীরা

314

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: পুজোর মুখে আর্থিক সংকটে ধুঁকছেন আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার ব্যবসায়ীরা। পুজোর বাজেটে কাঁটছাঁট করার চিন্তাভাবনা পুজো কমিটিগুলিরও।

‘আনলক’ শুরু হওয়ার পরও এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রায় আরও একমাস ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে বীরপাড়ার ব্যবসায়ীদের। কারণ পরে লকডাউন ঘোষণা এবং তারও পরে গোটা বীরপাড়া-১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটিই কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই পুজোর জন্য বাড়তি মালপত্র কেনার টাকা নেই ব্যবসায়ীদের হাতে। আবার ধারদেনা করে পুজোর আগে বিক্রির জন্য মালপত্র আনলেও তা বিক্রি হবে কিনা, পুজোর প্রাক্কালে এলাকার করোনা পরিস্থিতি কি থাকবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই বীরপাড়ার কাপড় ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই আবার এখনও পর্যন্ত পুজোয় বিক্রির জন্য কাপড়চোপড় আনেননি বা অর্ডার দেননি বলে ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে খবর। বাজারের পরিস্থিতি আঁচ করে পুজোর বাজেটে কাঁটছাঁট করার চিন্তাভাবনা করছে পুজো কমিটিগুলিও।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় বীরপাড়ায় ২৩ জুলাই থেকে ৭ দিন লকডাউন কার্যকর করে প্রশাসন। করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ায় ৭ অগাস্ট থেকে বীরপাড়া ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩টি পার্টকেই কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় ১৬ দিন পর ধীরে ধীরে খোলে দোকানগুলি। এছাড়া যে এলাকাগুলিতে তারও আগে করোনা সংক্রমণের হদিস মিলেছিল সেগুলিতে দোকানপাট আরও বেশিদিন বন্ধ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, পুজোর প্রাক্কালেও ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা নেই।

বীরপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কার্তিক সরকার বলেন, ‘বীরপাড়ায় দু’শোর বেশি কাপড়চোপড়ের দোকান রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির জেরে বেশিরভাগই পুজোর আগে বিক্রির জন্য মালপত্র আনার সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া অন্যবারের মতো পুজো কমিটিগুলিকে চাঁদা দেওয়ার সামর্থও নেই ব্যবসায়ীদের।’ কাপড় ব্যবসায়ী সিএম বোথরা বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে এবার এখনও পর্যন্ত পুজোর মুখে বিক্রিবাটা পঁচাত্তর শতাংশ কম। পুজোয় কি হবে জানি না। পুজোয় বিক্রির জন্য কাপড়চোপড়ও আনিনি।’ বীরপাড়ার মহাত্মা গান্ধি রোডের কাপড় ব্যবসায়ী সমীর পাল বলেন, ‘দিনের পর দিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। এবার পুজো কমিটিগুলিকে আদৌ চাঁদা দিতে পারব কিনা জানি না।’

বীরপাড়া যুব সম্প্রদায় পুজো কমিটির হিসাবরক্ষক কুণাল বিশ্বাস বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জেরে বাজারের অবস্থা বিবেচনা করে পুজোর বাজেটে কাঁটছাঁট করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। এছাড়া এবছর পুজোর বাজেটের একটা অংশ সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বীরপাড়া দুর্গাবাড়ি পুজোর বাজেটেও এবছর কাঁটছাঁটের চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। দুর্গাবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পুজো পরিচালনায় যারা অগ্রণী ভূমিকা নেন তাদের মধ্যে মনোজ গুহ বলেন, ‘বাজারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, হয়তো অন্যান্যবারের তুলনায় অর্ধেক বাজেটে এবছর পুজো সারতে হবে।’