বর্ষা শুরু হতেই চরতোর্ষা ডাইভারসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

168

ফালাকাটা: বর্ষা শুরু হতেই ফালাকাটার বেহাল চরতোর্ষা ডাইভারসন নিয়ে উদ্বিগ্ন আলিপুরদুয়ার জেলার ব্যবসায়ী মহল। করোনাকালে ব্যবসায়ীদের একাংশ এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। তারমধ্যে ভারী বৃষ্টি হলেই ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়কের চরতোর্ষা ডাইভারসন ভেঙে ভোগান্তিতে পড়তে হবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের। গত তিন বছরের অভিজ্ঞতায় এবারও ব্যবসায়ীরা এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চার বছরেও চরতোর্ষার সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক ব্যবসায়ী সমিতি। কারণ, বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ধাক্কা খেলে তার প্রভাব পড়ে আমজনতার ঘাড়েও। ঘুরপথে পণ্য পরিবহণে খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগে ব্যবসায়ীদের। পণ্যের দামও কিছুটা বাড়ে। তবে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

জেলার ব্যবসায়ীরা কেন উদ্বিগ্ন তা জানিয়েছে আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্স। সংগঠনের জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে জানান, এই ডাইভারসনের কারণে বর্ষার কয়েক মাস ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি হয়। ঘুরপথে শিলিগুড়ির পণ্য আনতে হয়। এজন্য পরিবহণ খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগে। আবার ফালাকাটার কৃষক বাজারে যেতে ব্যবসায়ী ও চাষিরা সমস্যায় পড়েন। তাঁদের দাবি ছিল, রাস্তার থেকেও বেশি গুরুত্ব দিয়ে সেতুগুলির কাজ করা হোক। অবশ্য কিছু সেতুর প্রাথমিক কাজ শুরুও হয়েছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে চরতোর্ষার বেহাল ডাইভারসনের জায়গায় বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য পদক্ষেপ করেনি সড়ক কর্তৃপক্ষ। সংগঠনের তরফে প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। তাই এবারও বর্ষা শুরু হতেই এই ডাইভারসন নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন জেলার ব্যবসায়ীরা। জেলা পরিষদের শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নিখিল পোদ্দার জানান, মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এজন্য দায়ী। করোনাকালে জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই বেড়েছে। ডাইভারসন ভেঙে পড়লে ঘুরপথে পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়বে। স্বভাবতই পণ্য সামগ্রীর দামও বাড়বে। তবে এই নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাইভারসন ভাঙলে যাতে দ্রুত মেরামত করা হয় সেই দাবি জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।

- Advertisement -

২০১৭ সালের বন্যায় চরতোর্ষার কাঠের সেতু ভেঙে যায়। তারপর ভাঙা সেতুর পাশেই হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করা হয়। কিন্তু গত তিনবারের বর্ষায় জলের তোড়ে বারবার এই ডাইভারসন ভেঙে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। এদিকে কয়েক বছর থেকে এই রাস্তায় চলছে ফোর লেনের মহাসড়কের কাজ। অভিযোগ, ডাইভারসনের ক্ষতি হলে বারবার তাপ্পি দিয়ে তা মেরামত করে দেয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। পাকা সেতুর কাজও চলছে ঢিমেতালে। তাহলে সড়ক কর্তৃপক্ষ এতদিনেও বর্ষার কথা ভেবে শক্তপোক্ত বিকল্প ব্যবস্থা কেন করতে পারল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নির্মীয়মাণ মহাসড়কের ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি রোড ইনচার্জ পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁদের কাজ শুরুর আগেই ওখানে ডাইভারসন তৈরি হয়৷ এখন সেটি তাঁরা দেখাশোনা করছেন। ডাইভারসনের পাশে থাকা পিএইচই-র জলের পাইপ ও লোহার খুঁটির কারণে বর্ষায় অনেক গাছ আটকে যায়। ফলে ডাইভারসনের ক্ষতি হয়। এবারও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। জলের ধাক্কায় ডাইভারসনের ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামত করা হবে।