সংকটের মুখে বাংলার ঐতিহ্য গম্ভীরা পুজো, আঁকড়ে রেখেছেন দয়ালরা

28

গাজোল: চৈত্র সংক্রান্তিতে গাজন উৎসবে মেতে ওঠে গ্রাম বাংলার মানুষ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় গম্ভীরা পুজো। দুটি ক্ষেত্রেই শিব এবং শক্তিকে আরাধনা করা হয়। তবে, গাজন উৎসব মূলত শিব কেন্দ্রিক। গাজন সন্ন্যাসীরা এই সময় নানারকম ব্রত পালন করেন। পরবর্তীতে চড়কের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় গাজন উৎসব। অন্যদিকে, গম্ভীরা পুজোতে মূলত মা কালীর আরাধনা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে গ্রাম্য যে সমস্ত দেবদেবীর রয়েছে তাঁদেরও আরাধনা করা হয়। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এসমস্ত লোক উৎসব। একসময় গাজোল, চম্পা দিঘি সহ বেশকিছু গ্রামের গম্ভীরা জাঁকজমকভাবে পালিত হত। গম্ভীরাকে কেন্দ্র করে বসত মেলা। চম্পা দিঘিতে এখনও গম্ভীরা পালিত হলেও গাজোলের গম্ভীরার সেই জাঁকজমক আর নেই। তার উপর এবার ভোট ও করোনা পরিস্থিতি হওয়ায় সেভাবে আর চোখে পড়ছে না গাজন সন্ন্যাসী বা গম্ভীরার ভক্তদের।

ব্যতিক্রমী হিসেবে এবার চোখে পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থানা এলাকার গম্ভীরা ভক্তদের। বুধবার দেখা গেল হরিরামপুরের যমুনা গ্রামের একদল ভক্তদের। তাঁদের দলের দলপতি দয়াল দাস জানান, এই গম্ভীরা পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। গম্ভীরা পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও বসে মেলা। পুজোতে যা খরচ হয় তা তোলার জন্য বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষে করেন তাঁরা। তারই অঙ্গ হিসেবে হরিরামপুর থেকে গাজোল এসেছেন পুজোর জন্য ভিক্ষে করতে। তবে, তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন আগে খুব জাঁকজমকভাবে গম্ভীরা পুজো অনুষ্ঠিত হত। বর্তমানে সেই জাঁকজমক না থাকলেও বংশপরম্পরায় আঁকড়ে রয়েছেন গম্ভীরা পুজোকে। আগামীদিনেও গম্ভীরার ঐতিহ্য যাতে বজায় থাকে তার জন্য সবরকম চেষ্টা চালাবেন তাঁরা।

- Advertisement -