ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠ উৎসব পালন

129

রায়গঞ্জ ও বক্সিরহাট: রায়গঞ্জ শহরে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠ উৎসব। শুক্রবার সকালে রায়গঞ্জ শহরের রাজপথ ধরে হেঁটে চলেছেন বাঁশি হাতে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। পাশে লাঙ্গল কাঁধে দাদা বলরাম। সঙ্গে গাড়ি ও গো-বৎস সমেত রাখাল বালকের দল। অষ্টসখী গোপ-গোপিনীর সঙ্গে আছেন বড়াই বুড়ি, জটিলা কুটিলারাও। সপার্ষদ রাখাল রাজা এদিন বৃন্দাবনের গোষ্ঠ লীলা করতে নেমেছিলেন রায়গঞ্জের রাজপথে। এসব কোনও মাটির তৈরি দেবদেবীর পুতুল বা মূর্তি নয়, শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ যাত্রা উপলক্ষ্যে জ্যান্ত মানুষ নিজেকে সাজিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধিকা, বলভদ্র সহ তাদের নানা সহচর রূপে। বাংলায় এই গোষ্ঠ উৎসব তেমন চালু না হলেও রায়গঞ্জ শহর এই অনুষ্ঠান ধুমধামের সঙ্গে হয়ে আসছে ৯৫ বছর ধরে। এদিন দুপুর থেকেই রায়গঞ্জের বিদ্রোহী মোর থেকে শিলিগুড়ি মোড় পর্যন্ত শহর জুড়ে মিছিল করেন উৎসব কমিটির সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী সহ অন্যান্য কাউন্সিলরগণ।

এই উৎসবের প্রতিষ্ঠা করেন রায়গঞ্জের বন্দর এলাকার নিবাসী গোপালচন্দ্র মণ্ডল। বাংলাদেশের দিনাজপুরের মহারাজদের গোষ্ঠ উৎসবে গিয়ে তিনি পুত্র সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে বলেছিলেন, যদি তার মনোস্কামনা পূর্ণ হয়, তিনিও গোষ্ঠ উৎসব পালন করবেন ধুমধামের সঙ্গে। এরপরই ১৯২৭ সালে তার তৃতীয় স্ত্রীর গর্ভে পুত্র সন্তান লাভ করেন। গোপাল বাবু ছেলের নাম রাখেন গোষ্ঠ বিহারী। পরে মানিকলাল মণ্ডল নামে পরিচিত হয় তিনি। গোপাল বাবু ও মানিক বাবুর পর উৎসবের দায়িত্ব এখন মানিক বাবুর ভাই কানাইলাল মণ্ডলের ওপর তবে পারিবারিক এই উৎসবটি আজ উত্তরণ ঘটেছে সার্বজনীতায়। গঠিত হয়েছে উৎসব কমিটি বন্দর এলাকার অধিবাসীদের নিয়ে।’ উৎসব কমিটির সম্পাদক ভোলা সাহা বলেন, ‘ছয়দিন ধরে অনুষ্ঠান চলবে। এখান থেকে ভক্তবৃন্দদের জন্য প্রতিদিন ভোগ হিসেবে খিচুড়ি বিতরণ করা হবে।’

- Advertisement -

অন্যদিকে, বক্সিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গোষ্ঠ উৎসব অনুষ্ঠিত হল। এদিন বক্সিরহাট মদনমোহন মন্দিরের উদ্যোগে মন্দির প্রাঙ্গন থেকে শোভাযাত্রা বের করে বিদ্যাসাগর পাড়ায় একটি মাঠে শেষ হয়। পরে সেখানেই গোষ্ঠ লীলা অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে বক্সিরহাট ছোটলাউকুঠি নর নারায়ণ সেবাশ্রমের উদ্যোগে ঘরঘড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এবং বারকোদালি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনমতিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে স্থানীয় হরিরধামের উদ্যোগে গোষ্ঠ লীলা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি স্থানেই ছোট ছোট শিশুদের কৃষ্ণ ও কৃষ্ণ সখা সাজিয়ে গোচারণ সহ গোষ্ঠ লীলার বিভিন্ন বিষয় অনুষ্ঠিত করা হয়। এর পাশাপাশি মন্দির ও আশ্রমগুলিতে ভাগবত পাঠ ও কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।