করোনা আবহে ঐতিহ্যবাহী মেজবিলের রাসমেলা হচ্ছে ৫ দিন 

140

শালকুমারহাট: গতবার কোভিডবিধির কারণে মেলা হয়নি। তবে এবার ৫০ শতাংশ স্টল নিয়ে কোচবিহারের রাসমেলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তাই আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের মেজবিলেও ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা এবার হচ্ছে। তবে দশদিনের মেলা কমিয়ে এবার পাঁচদিন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখন ৫২তম মেজবিল রাসমেলার জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে।

আলিপুরদুয়ার জেলার মধ্যে সব থেকে বড় রাসমেলা হয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজবিলে। কোচবিহারের রাসমেলাকে অনুকরণ করে ৫০ বছরেরও আগে এই মেলা ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়কের মেজবিল মাঠে শুরু হয়। এই মেলাতেও হাজার হাজার দর্শকের সমাগম হয়। তবে গতবার মেলা বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষের মন খারাপ ছিল। তাই এবার কাঁটছাট করে রাসমেলার আয়োজন চলছে। ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে সর্বজনীন রাসমেলা কমিটি। এবারের কমিটির সভাপতি হয়েছে সহদেব বর্মন। সহ সভাপতির দায়িত্বে দু’জন হলেন যামিনী রায় ও বাবলু বর্মন। বাদল সরকার ও অজয়কুমার বর্মন হলেন যুগ্ম সম্পাদক। আর মেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন সুরথচন্দ্র রায়।

- Advertisement -

কমিটির কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১৮ তারিখ রাসপুজো ও ১৯ তারিখ শ্যামা মায়ের পুজো হবে। তারপর ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর তিনদিন হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুজো সহ অনুষ্ঠানের তিনদিনে হবে মেলা। স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পীদের সমন্বয়ে ভাওয়াইয়া সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এই মেলায় রকমারি দোকানপাটও বসবে। তবে আগে যেমন সার্কার্স, নাগোরদোলা, পুতুল প্রদর্শনী হত, এবার সেসব থাকছে না। কমিটির সভাপতি সহদেব বর্মনের কথায়, ‘কোভিডবিধি মেনে এবার মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এজন্য অনেক কিছুই কাঁটছাট করা হয়েছে।’ স্থানীয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সরোদিনি বর্মনের বক্তব্য, ‘প্রান্তিক এলাকায় মেজবিলের রাসমেলা হল ঐতিহ্যবাহী। হাজার হাজার মানুষ সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। গতবার মেলা হয়নি। তাই এবার কোভিডবিধি মেনে অল্প কয়েকদিনের মেলা হচ্ছে।’