রণবীর দেব অধিকারী, ইটাহার :  ট্রাফিক পুলিশ শুধু যানবাহনকে পথ দেখান না। প্রয়োজনে বিপন্ন মানুষকেও য়ে নিরাপদে ঘরে ফেরার রাস্তা দেখিয়ে দেন, তা প্রমাণ করে দেখালেন ইটাহার থানার ট্রাফিক ওসি মন্টু বর্মন। কাজের খোঁজে ঘর ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পথ হারিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের একদল মানুষ। ঘটনাচক্রে তাঁরা এসে পড়েছিলেন ইটাহারে। অসহায় মানুষগুলো নজরে আসতেই তাঁদের উদ্ধারকর্তা হয়ে উঠলেন ইটাহারের ওসি (ট্রাফিক) মন্টুবাবু। বিপদে পড়া ওই মারাঠিদের খাইয়েদাইয়ে গাড়ি ভাড়ার টাকা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওযার ব্যবস্থা করলেন তিনিই।

ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। তখন চৌরাস্তা মোড়ে ডিউটি করছিলেন ট্রাফিক ওসি মন্টু বর্মন। সেই সময় স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে, ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলা সঙ্গে তিনটি কোলের শিশু নিয়ে এদিকওদিক বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছেন। তাঁদের মুখচোখ দেখে ও কথাবার্তা শুনে কেউ কেউ বুঝতে পারেন, মানুষগুলো অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসা করতেই জানা যায়, কাজের সন্ধানে এসে তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। বিষয়টি সিভিক ভলান্টিয়ার মারফত মন্টুবাবুর নজরে আসতেই তিনি তাঁদের ডেকে ট্রাফিক কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বসান। শুরু হয় হিন্দিতে জিজ্ঞাসাবাদ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তাঁদের বাড়ি মহারাষ্ট্রে। শিলিগুড়ির কোনো ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে কেবলের কাজ করার জন্য তাঁরা শিলিগুড়িতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু শিলিগুড়িতে এসে তাঁরা বুঝতে পারেন, তাঁরা কোনো প্রতারকের ফাঁদে পড়েছেন। ওই ঠিকাদারের কোনো পাত্তা না পেয়ে সেখানেই দিশেহারা হয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন। এরপর মঙ্গলবার ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরবেন বলে কোনো এক ট্রাকচালকের সহযোগিতায় তাঁরা মালদার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু সেই ট্রাকচালক তাঁদেরকে ইটাহারে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। ইটাহারে নেমে তাঁরা আরও দিশেহারা হয়ে পড়েন। কারণ, খাওয়ার কিংবা বাড়ি ফেরার জন্য তাঁদের হাতে কোনো নগদ টাকা ছিল না। তাঁদের অসহায় অবস্থার কথা শুনে মন্টুবাবু উদ্যোগ নিয়ে আশপাশের কয়েকজন ও সহকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এবং নিজের পকেট থেকে কিছু টাকা দিয়ে তাঁদের স্থানীয় হোটেলে খাওয়ান। এরপর ট্রেনের টিকিটের টাকা হাতে দিয়ে তাঁদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। মন্টুবাবুর এই মানবিক উদ্যোগে ওই মারাঠিরা বটেই, ধন্য ধন্য করছেন ইটাহারের সাধারণ মানুষও। মন্টু বর্মন বলেন, কী আর এমন করলাম। ভিনরাজ্যের একদল মানুষ প্রতারিত হয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন। তাঁদের দিকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলাম মাত্র।