রোগীর পরিজন সেজে বিহার থেকে অস্ত্র পাচার

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : বিহার সীমান্ত দিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার বেআইনি আগ্নেযাস্ত্র ইসলামপুরে ঢুকছে। রোগীর পরিজন কিংবা শ্রমিক সেজে ক্যারিয়াররা সবজির ব্যাগে করে গোলাবারুদ পৌঁছে দিচ্ছে। ইসলামপুর পুলিশ জেলা হওয়ার পর আগ্নেযাস্ত্রের রমরমা কারবার নিয়ে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এই অস্ত্র মাফিয়ারা মূলত ইসলামপুর শহরকেই করিডর করে মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় গোলাবারুদ পাচার করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই কারবারের সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কতটা সক্ষম হবে? কারণ, ইতিমধ্যে ইসলামপুর শহরে এক মহিলাকে ভরদুপুরে সুপারি কিলার দিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ সমস্যার কথা স্বীকার করে ইসলামপুর লাগোয়া গোটা বিহার সীমানায় নাকা চেকিংয়ে উদ্যোগী হবে বলে জানিয়েছে।

ইসলামপুর শহরের পশ্চিম দিকে ২ কিলোমিটার গেলেই বিহার সীমান্ত। ইসলামপুর শহর সহ ব্লকের বহু রাস্তা বিহারের সঙ্গে যুক্ত। বিহার থেকে অপরাধীদের ইসলামপুরে আসা বা এই এলাকায় অপরাধ করে বিহারে আশ্রয় নেওয়ার একাধিক রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ইসলামপুরে পাচারের নতুন কৌশল সামনে আসায় উদ্বিগ্ন পুলিশ-প্রশাসন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুরকে কেন্দ্র করে মূলত উন্নতমানের দেশি পাইপগান এবং কার্তুজের কারবার চলছে। মুমূর্ষু রোগীর পরিজন সেজে বা দৈনিক মজুরি করার নামে এই চক্রের ক্যারিয়াররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইসলামপুর পার করে বিহার সীমান্ত দিয়ে ৫০-৬০ কিলোমিটার পেরোলেই রয়েছে নেপাল সীমান্ত। ফলে এখান থেকে অস্ত্র নেপালেও পৌঁছে যাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন গোয়েন্দারা।

- Advertisement -

পুলিশেরই একটি সূত্র বলছে, প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকার লেনদেন চলছে। গোলাবারুদের এই কারবার নিয়ে চোপড়ায় দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা পুলিশের পদস্থ কর্তাদের বড়ো মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ কনট্রাক্ট কিলিং থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীকে গুলিকাণ্ডে জড়িতরা সকলেই চোপড়ার বাসিন্দা। সূত্রের খবর, রাজনৈতিক নেতা সহ ছিনতাইচক্রের পান্ডারা এই অবৈধ আগ্নেযাস্ত্রের অন্যতম ক্রেতা। যাত্রী পরিবহণের জন্য বিহার থেকে রোজ প্রচুর অটো বেআইনিভাবে ইসলামপুর শহরে ঢোকে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এই নিয়ে প্রকৃত কোনো তথ্য নেই। পুলিশের তরফেও এই বেআইনি যাত্রী পরিবহণ নিয়ে অভিযান চোখে পড়ে না। ফলে এই বেআইনি পরিবহণকেও চুটিয়ে কাজে লাগাচ্ছে অস্ত্র কারবারিরা।

ইসলামপুরের পুলিশ সুপার এর আগেই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আগ্নেযাস্ত্রের কারবার রুখতে পুলিশ আরও কড়া অবস্থান নেবে। ইসলামপুর থানার আইসি শমীক চট্টোপাধ্যায় বলেন, নতুন কায়দায় আগ্নেযাস্ত্রের কারবার চলছে বলে আমাদের কাছেও খবর আছে। এই কারবার রুখতে ইতিমধ্যে আমরা একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছি। শীঘ্রই বিহার সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে।