লকডাউনের সুযোগে উত্তরের সীমান্তে পাচারের রমরমা

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : কোচবিহার থেকে হিলি- লকডাউনে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাকারবারের রমরমা শুরু হয়েছে। শুধু চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত ৭ কোটি ১৯ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৭৩ টাকার পাচারসামগ্রী উদ্ধার করেছে বিএসএফ। যার মধ্যে ১০ হাজার ৩৪৮ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ, ১৭ হাজার ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪৯টি গোরু, ৩০ কেজি গাঁজা এবং সাপের বিষ ভর্তি জার আছে। করোনা আবহে সীমান্তে যেভাবে পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে উদ্বেগ চেপে রাখেননি বিএসএফ কর্তারা। বাহিনীর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি রাজীবরঞ্জন শর্মা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই স্পেশাল অপারেশন পার্টি তৈরি করেছেন তাঁরা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে শুরু হয়েছে স্পেশাল অ্যান্টি স্মাগলিং ড্রাইভ। শুধু বাংলাদেশ নয়, ইন্দো-ভুটান সীমান্তে কড়া সতর্কতার মাঝেও বাড়ছে পাচার।

আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ দিয়ে ইন্দো-ভুটান বাণিজ্য চালু রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি-রপ্তানি চলছে। পুলিশ এবং এসএসবির কড়া নজরদারি আছে। তা সত্ত্বেও ওই এলাকায় একের পর এক পাচারের ঘটনা ঘটেছে। ১০ মে আটার বস্তার ভিতরে লুকিয়ে ভারত থেকে ভুটানে নিয়ে যাওয়ার সময় এসএসবি এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয় ৩০টি নামী ব্র‌্যান্ডের অত্যাধুনিক মোবাইল হ্যান্ডসেট। পুলিশ জানিয়েছে, যেগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। ২০ মে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে ভারত থেকে ভুটানে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক থেকে ১২ লক্ষ টাকার সিগারেট উদ্ধার করে পুলিশ। ২৫ মে ভুটান থেকে ভারতে আসা একটি ট্রাক থেকে লক্ষাধিক টাকার ভুটানি মদ উদ্ধার করে জয়গাঁ থানার পুলিশ। ৩১ মে ফের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ভুটানি মদ উদ্ধার হয়। ১৮ জুন যৌথ অভিযান চালিয়ে ভুটান থেকে ভারতে আসা একটি ট্রাক থেকে ২৭ হাজার বোতল ভুটানি মদ উদ্ধার করে পুলিশ ও এসএসবি। যে সমস্ত এলাকা দিয়ে পাচার হতে পারে সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসএফ এবং এসএসবির কর্তারা। ইতিমধ্যেই ইন্দো-ভুটান সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এসএসবির শিলিগুড়ি ফ্রন্টিয়ারের আইজি শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগে জয়গাঁতেও যান তিনি। আইজি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে যাবতীয় বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পাচার রোধেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার থেকে হিলি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের নিয়ন্ত্রণাধীন ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের বহু এলাকা এখনও উন্মুক্ত আছে। এই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে পাচারের ঘটনা বাড়ছে। ফ্রন্টিয়ারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাটালিয়নে আলাদা করে স্পেশাল অপারেশন পার্টি তৈরি করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন ভিত্তিক স্পেশাল অ্যান্টি স্মাগলিং ড্রাইভ শুরু হয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই সেখানে পাহারায় থাকা জওয়ানের সংখ্যা দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সীমান্তে চারটি চোরাকারবার গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি গোষ্ঠী জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্তে পাচারের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্য দুটি গোষ্ঠী যৌথভাবে দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা সীমান্তে সক্রিয় হয়েছে। বিএসএফের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি এবং মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রাজীবরঞ্জন শর্মা বলেন, পাচার রোধে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি সীমান্তেই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সব এলাকাতেই নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।