মর্মান্তিক! সদ্যোজাতের দেহ ব্যাগে ভরে বাড়ির পথে পরিবার

223

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: মর্মান্তিক! আর কীই বলা যেতে পারে একে। অ্যাম্বুল্যান্স চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় সদ্যোজাতের দেহ বাজারের ব্যাগে ভরে হাসপাতাল থেকে বাড়ির পথে চলেছেন পরিবারের লোকজন। এমন দৃশ্য দেখে শিউড়ে উঠছেন সকলেই। সোমবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ নভেম্বর প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন কালিয়াগঞ্জের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা অনিতা দেবশর্মা (বর্মন)। সেদিন রাতেই তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় রবিবার সদ্যোজাতকে এসএনসিইউ-এ ভর্তি করা হয়। এদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। বিকেল চারটে নাগাদ দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকেলে মেডিকেল কলেজ চত্বরে দেখা গেল, প্রসূতির শ্বশুর সুরেন বর্মন একটি বাজারের ব্যাগে সদ্যোজাতের দেহ ঢুকিয়ে বাড়ি চলেছেন।

- Advertisement -

সুরেন বর্মনের অভিযোগ, ‘প্রসূতি ও মৃত শিশুকে নিয়ে মনোহরপুর যেতে অ্যাম্বুল্যান্স চালক তিন হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছেন। এই টাকা আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণে বাধ্য হয়ে দেহ বাজারের ব্যাগে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।’

অধিকাংশ মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, নিশ্চয়যান প্রকল্পে প্রসূতিকে বিনে পয়সায় হাসপাতালে নিয়ে আসা ও প্রসবের পর মা এবং শিশুকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিশ্চয়যান চালকরা মৃত শিশু সহ প্রসূতিকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চাইছেন না। অভিযোগ, এজন্য অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা লাগামছাড়া ভাড়া দাবি করছেন। যা গরিব পরিবারগুলির পক্ষে দেওয়া কোনওমতেই সম্ভব নয়। তাই পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে মৃত শিশুকে বাজারের ব্যাগে ভরেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

এবিষয়ে মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় জানান, মৃত শিশুর পরিবারের তরফে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পূরণকুমার শর্মা জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন। অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলার নিশ্চয়যান প্রকল্পের নোডাল অফিসার মনোজিৎ ঘোষ জানান, নিশ্চয়যান প্রকল্পে প্রসূতিকে বিনে পয়সায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রসবের পর মা ও সদ্যোজাতকে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হয়। এনিয়ে সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে। নিশ্চয়যান চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ এখনও জমা পড়েনি।