১০ মাস বন্ধ ট্রেন, ক্ষতির আশঙ্কায় মৃৎ শিল্পীরা

83

রায়গঞ্জ: গত বছর বাসন্তী পুজো থেকে হতাশা দেখা দিয়েছে রায়গঞ্জের কুমোরটুলিতে। করোনার কোপে সেই সময় থেকেই প্রতিমা শিল্পীরা বিপাকে পড়েছেন। দূর্গা, লক্ষ্মী ও কালীপুজোতে বরাত পায়নি কেউই। পাশাপাশি দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে ট্রেন বন্ধ।ফলে বিহার থেকে আসা ক্রেতাদেরও ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে না। তবে, ট্রেন চালু হবে এই আশায় মূর্তি গড়ছিলেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত ট্রেন চালু না হওয়ায় অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

প্রতিবছর রায়গঞ্জের কুমোরটুলির বেশিরভাগ প্রতিমা যেত বিহারে।বিহারে প্রতিমা গেলে বেশি দাম মেলে। বারসই, কাটিহার, পূর্ণিয়া, পাটনা পর্যন্ত রায়গঞ্জের প্রতিমা নিয়ে যান পুজো উদ্যেক্তারা। পুজো দোরগোড়ায় এলেও এবার ব্যস্ততা লক্ষ করা যাচ্ছে না রায়গঞ্জের কাঞ্চনপল্লীতে। এদিকে স্কুল, কলেজ বন্ধ অন্যদিকে প্যাসেঞ্জার ট্রেনও বন্ধ, ফলে মাথায় হাত প্রতিমা শিল্পীদের। এখনও প্রতিমার বরাত নেই। করোনার কারনে পাড়ায় পাড়ায়ও সেভাবে পুজো হচ্ছে না। ইতিমধ্যে রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্স ট্রেন চালুর দাবিতে স্টেশন ম্যানেজারকে স্মারকলিপি দিয়েছে। মৃৎশিল্পীরা আশাবাদী দ্রুত ট্রেন চালু হবে। তাতে যদি পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টায়। মৃৎ শিল্পী গোবিন্দ পাল জানান, লকডাউনে ভীষণ ক্ষতি হয়ছে। প্রতিবছর যত প্রতিমা তৈরি হয়, এবার তার অর্ধেক তৈরি করা হয়েছে। শিল্পী সমীরন পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে, অথচ বাজারে চাহিদাও কম, দামও নেই। এভাবে চললে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’

- Advertisement -

হাতিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ সিনহা বলেন, ‘করোনার কারনে বিদ্যালয় খোলার এখনও কোনো অনুমতি মেলেনি। তবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে পুজো হবে।’ পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত সোম বলেন, ‘আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্টেশন ম্যানেজারের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী ও রায়গঞ্জের সাংসদের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। ট্রেন পরিসেবা স্বাভাবিক না হলে, আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।‘