স্মৃতি উসকে ২৬ মার্চ ঢাকা-শিলিগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন

367

ঋদ্ধিমান চৌধুরী ও অমিতকুমার রায়, ঢাকা ও হলদিবাড়ি : আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশের রেলমন্ত্রক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন যাত্রার সূচনা করবেন বলে ঠিক রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য প্রকল্পেরও উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়ে এ মাসেই নিউ জলপাইগুড়িতে আন্তর্দেশীয় বৈঠক হবে। তবে দুদেশের রেলকর্তারা বলতে পারছেন না যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়মিত চলবে কবে।

হলদিবাড়ি-চিলাহাটির মধ্যে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ট্রেন চালু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়ে শিলিগুড়িতে  ৮-১০ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের বৈঠক হওয়ার কথা। বাংলাদেশ রেল সূত্রে খবর, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশি ডিআরএমের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল ৭ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ি পৌঁছোবে। বৈঠকে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে যে যাত্রীবাহী ট্রেনটি শিলিগুড়ি যাবে, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। কলকাতার শিয়ালদহ থেকে দর্শনা হয়ে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে চিলাহাটি ছুঁয়ে হলদিবাড়ি পৌঁছোনোর কথা উত্তর-পূর্ব ভারতের ট্রেনগুলির।

- Advertisement -

ইতিমধ্যেই দুই দেশের রেলমন্ত্রক জোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। খালপাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার রেলগেটের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-এর ১৮০ নম্বর ব্যাটালিয়নের এক কোম্পানি নিযোগ করা হয়েছে। কালীতলা বিওপিতে ওই জওয়ানদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাস্টমসের পরিকাঠামোও বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ-ভারত কানেক্টিভিটির আওতায় মুজিববর্ষেই শেষ হতে চলেছে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের কাজ। দুটি রেলপথের নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় ঠিকাদার সংস্থা। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ চালু হলে মোংলা বা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে সরাসরি অসম হয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহণ করা যাবে। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি সম্পন্ন হলে আগরতলা থেকে মাত্র ৮ ঘণ্টায় কলকাতা পৌঁছোনো সম্ভব হবে।

আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে টুঙ্গিপাড়া সফর করতে পারেন।  বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ডঃ একে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা ২৭ মার্চ। ডঃ মোমেন বলেন, ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটানে যাওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করেছি এবং ভারত এই বিষয়টি বিবেচনা করছে। ভারত-মায়ানমার-তাইল্যান্ড স্থলপথে সংযোগের বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, এটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম, মোংলা বন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল সহজ হবে। মুজিববর্ষেই চালু হবে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কোনও ট্রাক মাত্র চার ঘণ্টায় ত্রিপুরা পেঁছে যাবে। মৈত্রী সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় মৈত্রী সেতুর দূরত্ব মাত্র ৯২ কিলোমিটার। নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য প্রকল্প উদ্বোধনের সঙ্গে এটিরও উদ্বোধন করতে পারেন।