অগাস্টেই চিলাহাটি রুটে পণ্যবাহী ট্রেন

252

হলদিবাড়ি: প্রতিবেশী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধনের দীর্ঘ সাতমাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে শুরু হতে চলেছে নিয়মিত রেল পরিষেবা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী মাসের গোড়ার দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বাংলাদেশের ঢাকার ক্যান্টেনমেন্টগামী ট্রেন ছুটবে। তবে পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবার মাধ্যমে নবনির্মিত এই রুটে ট্রেনের চাকা গড়াবে বলে ভারতীয় রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর। এরজন্য রেলমন্ত্রকের তরফে যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে।

সুদীর্ঘ ৫৫ বছর পর হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে পুনরায় রেল চলাচলের উদ্যোগ নেয় প্রতিবেশী দুই দেশের রেলমন্ত্রক। এরজন্য ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে তৈরি করা হয়েছে ঝাঁ-চকচকে সুদৃশ্য আন্তর্জাতিক রেলগেট। রেল গেটটির নিরাপত্তার জন্য নিয়োগ হয়েছে বিএসএফের ১৮০ নম্বর ব্যাটেলিওনের এক কোম্পানি জওয়ান। শুল্ক দপ্তরের কর্মী ও রেলকর্মীদের জন্য গেট সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে দ্বিতলভবন। এনজেপি- ঢাকা ক্যান্টেনমেন্টগামী ট্রেন চলাচলের জন পাতা হয়েছে নতুন লাইন। বসানো হয়েছে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থা সহ অন্যান্য অত্যাধুনিক যন্ত্র। তৈরি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম।

- Advertisement -

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সম্প্রতি ভুটান সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গের ভূখন্ড দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণের জন্য বিকল্প দুইটি বাণিজ্য রুট উন্মুক্ত করার জন্য কেন্দ্র তথা রাজ্য সরকারের নিকট আবেদন জানানো হয়। দুইটি রুটের মধ্যে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথটির কথা বলা হয়েছে। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের তরফে ভুটান থেকে চামুর্চি, জয়গাঁ,পাসাখা, বীরপাড়া,এনজিপি ও হলদিবাড়ি হয়ে চিলাহাটি পর্যন্ত রুটটি সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক এই রুট সহযোগে পাথর, খনিজপদার্থ, কৃষিজপণ্য সহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রপ্তানী করতে উৎসুক ভুটান সরকার। এতে আর্থিকভাবে দুই দেশই লাভবান হবে। ভুটান সরকারের আবেদনের ভিত্তিতেই উদ্বোধনের পর পরিত্যক্ত হয়ে থাকা এই রুটে ট্রেন চালানোর প্রয়োজনীয় তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় রেলমন্ত্রক।

রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসের গোড়ার দিক থেকে নিয়মিতভাবে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে ছুটবে পণ্যবাহী ট্রেন। এরজন্য ইতিমধ্যে বার কয়েক হলদিবাড়ি স্টেশন পরিদর্শনে আসেন উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এডিআরএম সুরেশ কুমার শর্মা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ট্রেন গার্ড ও চালকদের লার্নিং রোড প্রশিক্ষণ। একটি রেল ইঞ্জিন এই রুটে বাংলাদেশের চিলাহাটি পর্যন্ত যাবে। হলদিবাড়ি ষ্টেশনে কাস্টম ও ইমিগ্রেশন দপ্তরের কর্তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ষ্টেশন ও নবনির্মিত প্ল্যাটফর্মটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাস্টমের সুপারিনটেন্ডেন্ট রিমা মাগ্রে জানিয়েছেনন, ‘বৃহস্পতিবার লার্নিং রোড প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে রেল ইঞ্জিন বাংলাদেশের দিকে ঢুকবে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন্দ চন্দ ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।