কর্পোরেট স্টাইলে তৃণমূল কর্মীদের নির্বাচনের প্রশিক্ষণ শিবির

174

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : এবার সম্পূর্ণ কর্পোরেটের ঢংয়ে নির্বাচনে নামতে চলেছে তৃণমূল। নির্বাচনের আগে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার থেকে শুরু করে বুথ কর্মীদের প্রশিক্ষণ, সমস্তই করা হচ্ছে নির্দিষ্ট নিয়মবিধি মেনে ভোটের আগে এবং ভোটের সময় কী করে পরিস্থিতি সামলাতে হবে তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে শীর্ষ থেকে নীচু তলার কর্মীদের। প্রশিক্ষণের খুঁটিনাটি দলেরও সকলকে জানানো হচ্ছে না। এত সতর্কতার মূল কারণ বিজেপির কাছ থেকে তৃণমূলের পরিকল্পনা গোপন রাখা।

প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা শিখছেন ভোটকেন্দ্র কীভাবে পাহারা দিতে হবে বা ইভিএমের কারচুপি কীভাবে ধরতে হবে। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রতিটি বিধানসভার পাঁচজন কর্মীকে নিয়ে ওই প্রশিক্ষণ শিবির হয়। সেখানে দলের হাতেগোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতত্ব উপস্থিত ছিলেন। অবশ্যই সেখানে ছিল ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টিম। ওই টিমই তৃণমূল কর্মীদের ভোটের রণকৌশল শিখিয়ে দেয়। তিন ঘণ্টা ধরে চলা প্রশিক্ষণ শিবিরে ভোটের প্রতিটি ক্ষেত্র নিয়ে পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। আগামী কয়েকদিন এই পাঁচজন করে কর্মী তাঁদের বিধানসভা এলাকার প্রতিটি বুথকর্মীকে এই রণকৌশল বুঝিয়ে দেবেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, এখন থেকেই দলের জেলা নেতাদের কাছে প্রতিটি বুথের অন্তত পাঁচজন করে কর্মীর নাম চাওয়া হয়েছে। ওই কর্মীরা ভোটের দিন পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন। এবারের ভোট নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনা সাজিয়েছে তৃণমূল। ইভিএমে কারচুপি নিয়ে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। এমনকি সমস্ত ভিভিপ্যাট স্লিপ গোনার জন্য দাবিও তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন। অন্যান্য বিরোধী দলও এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু সময়ে অভাবের কথা জানিয়ে কমিশন সমস্ত ভিভিপ্যাট স্লিপ গুনতে রাজি হয়নি। তৃণমূল সূত্রে খবর, এই দাবিতে আগামীদিনেও কমিশনের কাছে তৃণমূল দরবার করবে। এমনকি দিল্লিতে তৃণমূলের সংসদীয় প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাবে ভোটের দিন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কী ধরনের কারচুপি হতে পারে, ভিভিপ্যাট গোনার জন্য কোন ফর্মে কমিশনের কাছে দাবি জানাতে হবে, তা নিয়ে কর্মীদের বিস্তারিত জানানো হয়।

- Advertisement -

প্রতিবারই ভোটগ্রহণ শুরুর আগে মকপোল করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মকপোলের সময়ই ইভিএমে কোনও গোলমাল আছে কিনা, তা ধরার জন্য কর্মীদের এদিন ডামি ইভিএম নিয়ে হাতেকলমে দেখানো হয়। প্রয়োজনে প্রতিটি বুথে বেশি সংখ্যায় মকপোল করার জন্য তৃণমূল কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, এদিন বিধানসভা ভিত্তিক পাঁচজন কর্মীকে ডাকা হয়েছিল। নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

রীতিমতো কর্পোরেট স্টাইলে প্রশিক্ষণ হয়। জেলা নেতত্ব বিধানসভা ভিত্তিক  যে পাঁচজন কর্মীর নাম আইপ্যাকের কাছে পাঠিয়েছিলেন, শুধুমাত্র সেই কর্মীদেরই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেলাস্তরের সব নেতাকে এদিন ডাকা হয়নি। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথ থেকে পাঁচজন করে কর্মীর নাম আইপ্যাক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছ থেকে নিয়েছে।  যে পাঁচজন কর্মী এদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁরা ওই বুথস্তরের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এছাড়া ওই কর্মীরা ঠিকমতো প্রশিক্ষিত হলেন কিনা, তা আগামী দু-সপ্তাহ পর আইপ্যাক টিম খতিয়ে দেখবে। কোনও কর্মীর প্রশিক্ষণে ঘাটতি থাকলে আইপ্যাকের সদস্যরা তাঁদের ফের প্রশিক্ষণ দেবেন।

এবারের বিধানসভা ভোট  যে অন্য মাত্রা পেতে চলেছে, তা যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রস্তুতিতেই স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই বিজেপি কলকাতায় মিন্টোপার্কের কাছে একটি পাঁচতারা হোটেল সম্পূর্ণ বুক করেছে। ওই হোটেলেই নির্বাচনের ওয়ার রুম তৈরি করেছে তারা। ভিনরাজ্য থেকে আসা দলীয় নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ওই হোটেলেই থাকবেন। সেখানে সাধারণ লোকজন বা সংবাদমাধ্যমের অবাধ প্রবেশ থাকবে না। ওই হোটেলেরই একটি কনফারেন্স হলে মিডিয়া সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। ভোটের  যাবতীয় রণকৌশল ওই হোটেল থেকে পরিচালনা করা হবে। দলের আইটি সেল শাখা সহ অন্যান্য শাখার অফিসও সেখানেই করা হচ্ছে।