বদলি করা হল মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের সুুপারকে

378

বহরমপুর, ৩০ এপ্রিলঃ বদলি করা হল মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুুপার কাম ভাইস প্রিন্সিপাল ডাঃ দেবদাস সাহাকে। তার জায়াগায় স্বাস্থ্য ভবন থেকে পাঠানো নির্দেশে ওই হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিনের প্রফেসর ডাঃ শর্মিলা মল্লিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর পদে ডাঃ দেবদাস সাহাকে স্থানান্তিরত করা হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল করোনা হাসপাতালে ডাক্তারদের ডিউটি নিয়ে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এরপর তা কোনোভাবে প্রকাশ্যে চলে আসে। তাতে উল্লেখ ছিল কোনও রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হলে, তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে করোনায় মৃত্যু হয়েছে এমন কথা লেখা যাবে না। এছাড়াও মৃত্যুর শংসাপত্রে মৃত্যুর সঠিক কারনও লিখতে পারবেন না সংশ্লিস্ট ডাক্তাররা। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই, বিতর্ক শুরু হয়।

সোশাল মিডিয়ায় তা নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। সাধারণ মানুষ সহ রাজ্যের বিরোধী দলের কাছেও সেই নির্দেশিকা পৌঁছে যায়। এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপির সাংসদ বাবুল সুুপ্রিয় টুইটারে রাজ্য সরকারের করোনা নিয়ে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের এই সরকারি নির্দেশিকা প্রমাণ করে দিল যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য কোথাও প্রকাশ করছে না। শুধু মাত্র তাই নয়, সঠিকভাবে কোন পরীক্ষাও হচ্ছে কিনা তা নিয়েও, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখেছে। ঘটনার পর বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরি করোনা নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানকে তোপ দেগেছেন।

- Advertisement -

অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, কিভাবে একটি জেলার মেডিকেল কলেজে ডাক্তারদের রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ ছাড়া এধরনের নির্দেশিকা দেওয়া সম্ভব। জেলাতে যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তবে রাজ্য সরকার সর্ম্পূনভাবে তা অন্ধকারে রাখার চেস্টা করছে। নবান্নের নির্দেশ মতো সমস্ত তথ্য লুকিয়ে রাখার চেস্টা করা হচ্ছে। সেটা এবার সবাই বুঝতে পারছে। আর যখন কোনোভাবে তা সামনে আসছে, তখন সরকারি আধিকারিকদের হয়তো বদলি করা হচ্ছে উত্তরবঙ্গে না হলে সুুন্দরবন এলাকাতে৷ অন্যথায় কম্পালসারি উইং লিস্টে। এগুলি না করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করলে রাজ্যের ভাল হতো বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।