সেতু সংযোগকারী রাস্তা ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

275

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: সেতুতে ওঠার মুখেই ভেঙ্গে গিয়েছে রাস্তা। গত সাতদিন থেকে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছ মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৪ ফুলকাডাবরি গ্রাম। স্থানীয়দের অভিযোগ গত কয়েকদিন ধরে সতি সেতুর মুখের সামনে থেকে মাটি পাথর সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলেও এ বিষয়ে কারোর কোনও হেলদোল নেই। যদিও ওই সেতু পরিদর্শনে যান কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্যা ফুলতি রায়।

তিনি বলেন, ১০৪ ফুলকাডাবরি গ্রামের বারুনিমেলা যাবার রাস্তায় সানিয়াযান নদীর উপরে থাকা ছোট্ট সেতুটিতে উঠতেই রাস্তা ভেঙে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ওই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স কিছুই সেতুর উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছেনা। এতে সংলগ্ন এলাকার প্রচুর মানুষ সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং নদীতে জল বাড়তেই সেতুতে ওঠার রাস্তা ভাঙতে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেদের উদ্যোগে কিছু মাটি ও বালি ফেলে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করলেও সেগুলিও সরে গেছে। সমস্যা মেটাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে যে কোনওদিন রাস্তা পুরো ভেঙে গিয়ে সেতুটি রাস্তা থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তারা দারুণ চিন্তায় পড়ে গেছেন।

এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। সেতুর মুখে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় কৃষকদের কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। তবে শুধু তাই নয় গ্রামবাসীরা জানান, এমনিতেই যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা অনুন্নত সীমান্তের এই গ্রামের। সেতু পেরিয়ে এলাকার মানুষজনকে স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার প্রভৃতি জায়গায় যেতে হয়। এটিই এলাকায় প্রবেশের একমাত্র রাস্তা।

এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজনকে। তারা অবশ্য জানিয়েছেন, সেতুর মুখে রাস্তা ধসে গিয়ে গর্ত তৈরি হবার পাশাপাশি সেতুটির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তাই ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেতু ভেঙে গেলে সেতুর ওপারে থাকা মানুষজনকে কার্যত আটকে পড়তে হবে অর্থাৎ তাদের গ্রাম থেকে বাইরে বের হওয়া সম্ভব হবেনা।

রাস্তা ভাঙ্গায় চা বাগানের কাজেও সমস্যা হচ্ছে বলে অনেকে জানান। তাদের বক্তব্য এই এলাকায় অনেক চা বাগান রয়েছে। বর্তমানে কাঁচা পাতা বিক্রির জন্য এই সেতুর উপর দিয়েই বাইরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমানে এই কাজে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন রোধে পাড় বাঁধ নির্মাণের দাবিও তারা করেছেন। কারণ ভাঙনে ইতিমধ্যেই অনেকের চাষের জমি এবং চা বাগানের ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ভাঙন রোধ এবং সেতু সমস্যার কথা স্থানীয়দের তরফে ব্লক প্রশাসন এবং সেচ দপ্তরকে জানান হবে বলে তারা জানান। যদিও এবিষয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া কোনও মন্তব্য করেননি।