দীর্ঘদিন ধরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্স

134

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার রায়গঞ্জ ডিপোতে একটি আধুনিক ও উন্নত পরিষেবায়যুক্ত ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে এই সংস্থার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য দপ্তর বা কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তরের দেওয়া এই আধুনিকমানের ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় তিন বছর ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। দপ্তরের দাবি, টেকনেশিয়ান না থাকার কারণে এটি চালানো যাচ্ছে না। শীঘ্রই এটির পরিষেবা শুরু করা হবে।

যদিও সংস্থার সিটু ও আইএনটিইউসি-র নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে এককথা শুনে আসছি। যদি টেকনটিক্যাল স্টাফ না থাকে তাহলে স্বাস্থ্য দপ্তর বা কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি চালানো হোক। এভাবে বছরের পর বছর পড়ে থাকতে থাকতে অকেজো হয়ে যাবে।’

- Advertisement -

সিটুর জেলা সভাপতি পরিতোষ দেবনাথ বলেন, ‘পরিবহন দপ্তর থেকে পাওয়া ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিকে নিয়ে বার বার লিখিতভাবে ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ডিভিশনাল ম্যানেজারকে জানানো সত্ত্বেও সেটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের কাজেও লাগছে না।’

পরিবহণ সংস্থার আইএনটিইউসি-র নেতা প্রণব বসাক বলেন, ‘অনেকদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে আছে। আমরা চাই এটিকে ব্যবহার করা হোক। স্বাস্থ্য দপ্তর বা কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে এটি চালানো যেতে পারে।’

রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সবকিছুর মূলেই কাটমানি। হয়তো কাটমানি পাচ্ছে না বলে নেতাদের নির্দেশে সাধারণ মানুষের জন্য খুব প্রয়োজনীয় ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ফেলে রাখা হয়েছে। পথ দুর্ঘটনায় আহতদের নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে না পৌঁছোতে পেরে প্রতিদিন অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এই অ্যাম্বুলেন্সটির মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়া শুরু হলে অনেকের প্রাণ বাঁচবে।’

রায়গঞ্জ ডিপোর তৃণমূল প্রভাবিত ড্রাইভার্স অ্যান্ড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের অফিস সম্পাদক কৌশিক কুমার দে জানান, ওই অ্যাম্বুলেন্সটিতে টেকনিশিয়ান নেই। সেটাই বড় সমস্যা। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সটির জন্য উপযুক্ত টেকনিশিয়ানের নিয়োগ করা হলে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পরিবহণ দপ্তর কর্মী নিয়োগ করে এটি চালানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, রায়গঞ্জ ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সুবীর সাহা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একমাসের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘হেডকোয়ার্টারে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও টেকনিশিয়ান আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটা আমাদের পরিবহণ দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য এসেছিল। কাজে লাগছে না বলে চালানো হচ্ছে না। এখানে টেকনিশিয়ান না থাকায় একটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’ এদিকে, রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি তাদের হাতে তুলে দিলে চালাতে রাজি বলে জানিয়েছে।