জলপাইগুড়িতে বেসরকারি উদ্যোগে হেরিটেজ পর্যটন

375

পূর্ণেন্দু সরকার,  জলপাইগুড়ি : আয়রন হাউস, দেবী চৌধুরানির মন্দির, ইউরোপিয়ান ক্লাব। জলপাইগুড়ির ভাঁড়ারে ঐতিহাসিক এমন বহু নিদর্শনই রয়েছে। এগুলিকে হেরিটেজ হিসাবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ঘোষণা না করা হলেও এই নিদর্শনগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যে অপরিসীম তা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না। হেরিটেজ টুরিজম বা হেরিটেজ পর্যটন যে কোনো জায়গারই গুরুত্ব অনেকটা বাড়িয়ে তোলে। আজকাল পর্যটকদের মধ্যে এর গুরুত্বও অনেকটাই বেড়েছে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই জলপাইগুড়িতে সরকারিভাবে হেরিটেজ পর্যটন চালুর উদ্যোগ চলছে। জেলায় এই পর্যটনের সম্ভাবনা বুঝে বেসরকারি পর্যটন ব্যবসায়ীরা অবশ্য ইতিমধ্যেই একাজে নেমে পড়েছেন। চলতি বছরেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে স্নাতকস্তরে কলা বিভাগে ইতিহাসের সঙ্গে হেরিটেজ নিয়ে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এনিয়ে পড়াশোনা করছেন। শিক্ষামূলক ভ্রমণে এই পড়ুয়াদের সুবিধা দিতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা উদ্যোগী হয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। নিজেদের উদ্যোগের বিষয়ে সবাইকে জানান দিতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন জলপাইগুড়ি টুর অপারেটরস অ্যান্ড ওয়েফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সম্প্রতি একটি ওয়েবপেজ খোলা হয়েছ। এই ওয়েবপেজে গেলে সংগঠনের নবতম এই উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে সবই জানা য়াবে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সম্পাদক সব্যসাচী রায় বলেন, জলপাইগুড়ি এক সময় উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় শহর ছিল।  ইংরেজরা অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলায় বহু স্থাপত্য গড়ে। এখানে বহু মন্দির, মসজিদ, গুম্ফা রয়েছে যেগুলিকে স্বচ্ছন্দে হেরিটেজ নিদর্শন বলা যায়। রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের নির্দেশে ২০১৩ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তরবঙ্গের জন্য একটি হেরিটেজ কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই কমিটি জলপাইগুড়ি জেলার যে সমস্ত নির্দশনকে প্রস্তাবিত হেরিটেজ তালিকায় নথিভুক্ত করে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনে প্রাথমিকভাবে পাঠিয়েছিল সেগুলিকেই আমরা আমাদের হেরিটেজ পর্যটন পরিসেবায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। সব্যসাচীবাবু জানান, হেরিটেজ নিয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এনিয়ে পড়াশোনায় ভরতি হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কিছুটা কম খরচে শিক্ষামূলক ভ্রমণের ব্যবস্থাও করেছি। কলেজগুলি আমাদের সাহায্যে পড়ুয়াদের হেরিটেজ জায়গাগুলিতে নিয়ে যেতে পারেন।

- Advertisement -

পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন সূত্রে খবর, বেসরকারি হেরিটেজ পর্যটনের তালিকায় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি, রাজবাড়ির দিঘি, ইউরোপিয়ান ক্লাব, সেন্ট মাইকেল অল অ্যাঞ্জেল চার্চ, প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস, আয়রন হাউস, ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানির মন্দির, জল্পেশ মন্দির, জটিলেশ্বর ও বটেশ্বর মন্দির, কালুসাহেবের মাজার, পান্ডাপাড়া ও দিনবাজার কালীবাড়ি, গর্তেশ্বরী ও গর্ভেশ্বরী দেবীমূর্তি ছাড়াও জেলার প্রায় ৮৪টি ঐতিহ্যশালী স্থাপত্য, ভবন ও ধর্মীয় স্থানকে বাছা হয়েছে। এদিকে, পর্যটন ব্যবসায়ীরা পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণে উদ্যোগী হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুশি। জলপাইগুড়ি প্রসন্ন দেব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শান্তি ছেত্রী বলেন, ইতিহাস নিয়ে পাঠ্যক্রমে আমরা হেরিটেজ বিষয়টিও পড়াচ্ছি। এই পাঠ্যক্রমে ফিল্ড স্টাডিও রয়েছে। কিন্তু প্রায় ৫০০ ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষামূলক ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে ব্যয়সাপেক্ষ। পর্যটন ব্যবসায়ীরা একাজে এগিয়ে এলে আমরা উপকৃত হব। জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হেরিটেজ নিয়ে ফিল্ড স্টাডির অনেক জায়গাই আছে। এই শিক্ষামূলক ভ্রমণে পড়ুয়ারা অনেকটা উপকৃতও হবেন। কিন্তু এর খরচ নিয়ে চিন্তায় আছি। এনিয়ে কেউ এগিয়ে এলে আমরা উপকৃত হব। সব্যসাচীবাবুর অবশ্য আশ্বাস, আমরা কলেজগুলিকে কম খরচে শিক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেব।অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন নিদর্শনকে হেরিটেজ হিসাবে চিহ্নিত করতে প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের পর্যটন বিভাগের আধিকারিক রিচার্ড লেপচা বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থাপত্য, স্থানকে হেরিটেজ হিসাবে চিহ্নিত করতে আমরা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহায্য নিচ্ছি। এনিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকাটি তৈরির পর আমরা সেই হেরিটেজ নিদর্শনগুলির বিষয়ে আমাদের ওয়েসাইটে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করব। এরপরই জেলায় সরকারিভাবে হেরিটেজ পর্যটন ব্যবস্থা চালু হতে পারে বলে তিনি জানান।