লাটাগুড়ির জঙ্গল থেকে রোজই গাছ কাটা চলছে, উদাসীন বন দপ্তর

1186

শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই লাটাগুড়ির জঙ্গলে ঢুকছে। তারা প্রায় প্রতিদিনই জঙ্গল থেকে বহু মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গল রক্ষা ও গাছ পাচার ঠেকাতে বন দপ্তরের লাটাগুড়ি রেঞ্জের তরফে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও সে সমস্তই স্রেফ লোকদেখানো বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ। লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জগবন্ধু সেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই লাটাগুড়ির জঙ্গল থেকে বহু মূল্যবান গাছ কেটে সেগুলি পাচার করা হচ্ছে। এভাবে জঙ্গলের গাছ কাটার জেরে বন্যপ্রাণীরা প্রতিদিনই লোকালয়ে বেরিয়ে আসছে। কাঠ পাচার রুখতে বহুবার বন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বন দপ্তর অভিযোগ মানতে চায়নি। সমস্যা মেটাতে জঙ্গলের প্রতিটি বিটের কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলে দপ্তর জানিয়েছে। এছাড়া, সমস্ত অভিযোগের বিষযে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বনবিভাগের জলপাইগুড়ির ডিএফও মৃদুল কুমার আশ্বাস দিয়েছেন।

লাটাগুড়ির জঙ্গল থেকে প্রতিদিন গাছ চুরির অভিযোগ রয়েছে। খড়ি সংগ্রহের নামে জঙ্গলে ঢুকে বিভিন্ন বনবস্তির বাসিন্দা মহিলারা প্রতিদিন গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। বনকর্মীদের একাংশের মদতেই লাটাগুড়ির জঙ্গল থেকে এভাবে অবাধে গাছ কাটা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সব কিছু জানা থাকা সত্ত্বেও বন দপ্তর উদাসীন। জঙ্গলে সাধারণের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি বন দপ্তরের লাটাগুড়ি রেঞ্জের তরফে দাবি জানানো হয়। দপ্তর সূত্রে খবর, কাঠ চুরি ও জঙ্গলে অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে লাটাগুড়ি বিটের ১২ জন বনকর্মীকে নিযে একটি বিশেষ দলও গড়া হয়েছে। জঙ্গলে সাধারণের অবাধ প্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি এই দলের সদস্যরা দিনরাত জঙ্গলে বিশেষ নজরদারি চালাবেন বলে ঠিক হয়। মুখে এত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও আদৌ এসব কোনো কাজেই আসছে না। প্রায় প্রতিদিনই দিনের বেলায় লাটাগুড়ির তিস্তা ক্যানাল পার করে গাছ কেটে পাচার চলছে। লাটাগুড়ি জঙ্গল লাগোয়া আপ্পু চা বাগানকে করিডর করে অবাধে এই গাছ পাচারের কারবার চলে। দিনের বেলা সকলের সামনে দিযে অবাধে গাছ পাচার চললেও বন দপ্তর ব্যবস্থা নেয় না বলে অভিযোগ। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল বন দপ্তরের ভূমিকায় ক্ষোভ জানিয়েছে।

- Advertisement -

পরিবেশপ্রেমী সংগঠন গ্রিন লেভেল ওযেফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদার বলেন, বর্তমানে লাটাগুড়ির জঙ্গল থেকে কী হারে গাছ কাটা চলছে তা জঙ্গলে ঢুকলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে। এভাবে গাছ কাটার জেরে এখানকার জঙ্গল অনেকটাই ফাঁকা হযে গিয়েছে। বনকর্মীদের একাংশের মদতেই এভাবে জঙ্গল থেকে গাছ কাটা চলছে। এমনটাই চলতে থাকে তাহলে এখানে জঙ্গল বলে আর কিছুই থাকবে না। সমস্যা মেটাতে অনির্বাণবাবুরা দ্রুত জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।