ডুয়ার্সের চার জঙ্গলে কাঠ মাফিয়াদের থাবা

266

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : বনকর্মীর সংখ্যা কম। দুটি গাড়ির মধ্যে একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয় বন্যপ্রাণীর হানা রুখতে। বনাঞ্চল রক্ষা থেকে শুরু করে কাঠ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যে গাড়িটি একমাত্র ভরসা, সেটিও ভাড়া করা গাড়ি। বনকর্মীরা একদিকে টহল দিতে গেলে অন্যদিকে নিশ্চিন্তে কাজ সেরে পালিয়ে যায় কাঠ মাফিয়ারা। ফলে জলপাইগুড়ি ডিভিশনের দলগাঁও রেঞ্জের বনাঞ্চলগুলি কাঠ মাফিয়াদের দাপটে সাফ হয়ে যেতে বসেছে।

দলগাঁও রেঞ্জের অধীনে রয়েছে বান্দাপানি, দলমোর ও দলগাঁও বিট। অথচ তিনটি বিটের মধ্যে মাত্র একটিতেই স্থায়ী বিট অফিসার রয়েছেন, বাকিগুলিতে রয়েছেন দাযিত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার। তিনটি বিটের অধীনে রয়েছে দলমোর, গারুচিরা, বান্দাপানি ও দলগাঁও বনাঞ্চল। বন দপ্তর সূত্রের খবর, দলগাঁও রেঞ্জের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল রক্ষার পাশাপাশি ৫০০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় নজরদারি চালানোর জন্য রয়েছেন ৩০ জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই অস্থায়ী কর্মী। তাঁদের মধ্যে আবার কয়েকজন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কেউ শারীরিক সমস্যার কারণে যেমন ফিল্ডে কাজ করতে পারছেন না, তেমন তিনি আবার অফিসের কাজকর্মও বিশেষ জানেন না। ফলে একপ্রকার বসেই থাকেন তিনি। ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডে জনা দশেক কর্মী থাকলেও স্কোয়াডের রেঞ্জারের দায়িত্বে রয়েছেন দলগাঁওয়ে রেঞ্জারই। এই সুযোগে বান্দাপানি, দলমোরের মতো জঙ্গলগুলিতে রাজত্ব চালাচ্ছে কাঠ মাফিয়ারা। বন দপ্তর সূত্রে খবর, বান্দাপানি ও ঢেকলাপাড়ার কিছু কাজ হারানো শ্রমিককে ব্যবহার করে বান্দাপানি বনাঞ্চলে কাঠ মাফিয়ারা থাবা বসিয়েছে। আবার দলমোরের গারোবস্তি এলাকায় গড়ে ওঠা কাঠ মাফিয়াদের দল দলমোর বনাঞ্চলে গাছ কাটছে। বীরপাড়া-মাকড়াপাড়া রাস্তার পাশেই দলমোর বনাঞ্চলের গাছ কাটার নজির চোখে পড়ে। এরই মধ্যে দলমোর, বান্দাপানি এলাকাগুলিতে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বেআইনি কাঠ বাজেয়াপ্ত করেছে বন দপ্তর।

- Advertisement -

দলগাঁওয়ের রেঞ্জার দোরজি শেরপা বলেন, সীমিত সংখ্যক কর্মী নিয়ে আমরা বনরক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বনে নজরদারির পাশাপাশি যে এলাকাগুলিতে কাঠ পাচারকারীরা সক্রিয়, সেগুলিতে অভিযান চালাচ্ছি। লক্ষ লক্ষ টাকার কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জলপাইগুড়ির অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, ডুয়ার্সের বনাঞ্চলগুলি রক্ষা করতে গেলে বেশ কিছু বনকর্মী নিযোগ করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকেও বন রক্ষায় হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।