উল্লারঘাটে রাতে রাস্তার ধারের গাছ লোপাট

198

তুফানগঞ্জ: তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উল্লারঘাট এলাকায় সরকারি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে রাস্তার দুধারে বহু বছরের পুরোনো গামারি, জারুল সহ অন্যান্য গাছ দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি ওই এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি কেটে রাখা গাছের গুঁড়ি নিতে এসেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনা দেখে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে রুখে দাঁড়ান। তখন ওই ব্যক্তিরা চম্পট দেয়। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আরও কিছু গাছ কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওই ব্যক্তিরা। এইভাবে গাছ কাটার ফলে বাস্তুতন্ত্রের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই নদী সংলগ্ন এলাকার বহু পাখি আশ্রয়হীন হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা অভিরাম দাস বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে নজরে পড়ে, বহুমূল্য পুরোনো গামারি গাছ কেটে টুকরো করে রেখে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় খবর নিয়ে দেখা যায়, এর আগেও কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা। আমরা সকাল থেকেই হাজির ছিলাম দুষ্কৃতীদের ধরার জন্য। কিন্তু আমাদের দেখতে পেয়ে দুষ্কৃতীরা এলাকা থেকে চম্পট দেয়। গাছের গুঁড়ি এলাকাতেই রয়েছে। আগামীদিনে যাতে আর সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার অভিযোগ, যে যার ইচ্ছামতো গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকাতেই খোঁজ নিলে কিছু মূল্যবান গাছ উদ্ধার করা যাবে বলে তাঁর দাবি। গাছ কাটা নিয়ে মুখ খুললে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের জীববৈচিত্র‌্য ব্যবস্থাপনা সমিতির চেয়ারম্যান সরোজকুমার পঞ্চানন বলেন, অবৈধভাবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। এইভাবে গাছ কাটার ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের যেমন ক্ষতি হবে, ঠিক তেমনই নদী সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয়হীন পড়বে। এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়ে সদস্য মলয় বর্মন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর  নিয়ে দেখছি।

- Advertisement -

অন্দরান ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মণীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, এভাবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা মোটেও ঠিক নয়। বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের নামে এফআইআর করা হবে। এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বন দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জিতকুমার সাহা জানিয়েছেন, বন দপ্তরের বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা ঠিক নয়। এটি গ্রামীণ এলাকার ঘটনা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বন দপ্তরের তরফে অভিযান চালানো হবে।