ভাঙন আতঙ্কে কম দামে গাছ বিক্রি

243

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর : ফি বছর নদীভাঙনই ওঁদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ধুলাগাঁও এলাকার নিয়াশার ঘাটে প্রতিবছর ভাঙন হয। বর্ষা এলে এই ভাঙনের কারণে রাতের পর রাত ঘুমাতে পারেন না বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনবছর  ধরে খরস্রোতা মুজনাই নদীর ভাঙন হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে নদী এগিয়ে আসছে বসতি এলাকায়। এবারে বসতি এলাকায় নদী প্রবাহিত হওয়ায় বড় মাপের গাছ, ফসলের জমি, বাঁশবাগান সমস্তটাই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এলাকার বেশ কিছু বাড়িও ভাঙনের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় একশো মিটার মাটির বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হযে গিয়েছে। যার জেরে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিবারই নতুন করে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলের জমি, গাছপালা সব তলিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে বলেও কোনও কাজ হচ্ছে না। কেউ কোনও কর্ণপাতই করছেন না। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কত মানুষের যে বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাবে তা ভেবেই বাসিন্দাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। নীলমণি রায় নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, গত তিন বছরে আমার দশ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রশাসন দেখেও নির্বিকার। এখন বড় বড় গাছ নদীতে তলিযে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কম দামে গাছ বিক্রি করছি। মণীন্দ্র রায় নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, জমি ও গাছ বাগান একইসঙ্গে নদীতে চলে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে ভাঙন শুরু হওয়ায় বহু গাছ নদীতে চলে গিয়েছে। এখনও যেসব গাছ অক্ষত আছে সেগুলি বাধ্য হয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এরপর বাড়িঘরও কবে চলে যাবে জানি না। আরেক বাসিন্দা গণেশচন্দ্র দাস বলেন, আমার কুড়িটি গাছ, বাঁশের ঝাড় এবং জমি নদীতে চলে গিয়েছে। নদীভাঙন এমন জায়গায় এসেছে তাতে ঘরবাড়িও কোনওদিন চলে যেতে পারে। আমাদের আশঙ্কার কথা কেউ শুনতে চায় না।

এ বিষয়ে স্থানীয পঞ্চায়েত সদস্য অলিয়ার রহমান বলেন, বহুবার ব্লক প্রশাসন বিষযটি দেখে গিয়েছে। তারা জানেও বিষয়টি। কিন্তু কাজ শুরু হযনি। যার ফলে এলাকায় বড় মাপের ক্ষতি হয়ে চলেছে। বিষযটি দ্রুত দেখলে এলাকাটি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাঞ্জো মাঝি বলেন, একাধিকবার বিষয়টি সেচ দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তার পরেও কাজ হচ্ছে না। গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় এত বড় কাজ করা সম্ভবও নয়। তাই বিষয়টি আবার সেচ দপ্তরে জানানো হবে।

- Advertisement -