ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন দিশা ট্রেকিং-টেন্ট টুরিজমে

119

মালবাজার : করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে ডুয়ার্স এবং লাগোয়া পাহাড়ি এলাকাগুলি পর্যটনের চেনা ছন্দে ফিরছে। শীতের কাঁপুনি সত্ত্বেও এবার পর্যটকরা আসছেন। পর্যটনোদ্যোগী বিভিন্ন মহল নতুন রুটে ট্রেকিং এবং তাঁবু খাটিয়ে পর্যটকদের বসবাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পন্থা শীতেও পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

লকডাউনের জেরে  ডুয়ার্স এবং লাগোয়া পাহাড়ি এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন পর্যটনকেন্দ্রগুলি বন্ধ ছিল। পাহাড়ে শীত এখন পুরোদমেই আছে। তবে এই শীতেও পর্যটকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত বিভিন্ন মহল ট্রেকিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। ত্রিবেণিতে তাঁবু খাটিয়ে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা বেশ সাড়া ফেলেছে। এইসব এলাকার অফবিট রুটগুলিতে বিখ্যাত ভ্রমণ বিশারদ অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় কয়েক দফায় ট্রেকিং করে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পাহাড়ে তাঁবুতে থেকে ট্রেকিং টুরিজমের কাজ করছেন। অনিন্দ্যবাবু বলেন, আমরা গরুবাথান থেকে পাহাড়ি পথে তোদে পর্যন্ত ট্রেকিং করেছি। বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু খাটিয়ে থেকেছি। আমরা পাহাড়ি গ্রামগুলিকে নিয়ে পর্যটন বিকাশের চিন্তা করছি। প্রথাগত রুট ছাড়াও ভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল করছে। এই সমস্ত পথ পর্যটকদের নতুন স্বাদ দিতে পারে। পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত লেনিন রাই বলেন, হোমস্টে কিংবা পর্যটনকেন্দ্রের পাশেই পর্যটকরা স্বচ্ছন্দে তাঁবুতে থাকতে পারছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে এলাকার আর্থিক সমৃদ্ধি হচ্ছে। আমরা গরুবাথানের বিভিন্ন হোমস্টেকে যুক্ত করে সমন্বয়সাধনের চেষ্টা করছি। ডালিমখোলা, চেলখোলার পাশে তাঁবু খাটিয়ে পর্যটকদের রেখেছি। ডালিমখোলা থেকে ঐতিহ্যবাহী ডালিম ফোর্ট পর্যন্ত ট্রেকিং রুট করা হয়েছে। পরে ডালিম ফোর্ট থেকে দিবদাড়া হয়ে পর্যটকেরা ফিরে আসছেন।

- Advertisement -

ঝান্ডি এলাকার পর্যটনে যুক্ত রাজেন প্রধান বলেন, আমরা গরুবাথান পাহাড়ের সৌরিণীর মত দুর্গম এলাকাতেও স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎসাহ দিচ্ছি। তাঁরাও তাঁবু খাটিয়ে পর্যটকদের রাখতে আগ্রহী। সৌরিণী এলাকার যুবক অজিত রাই বলেন, আমরা এতদিন শুধু কৃষিকাজের ওপরেই নির্ভরশীল ছিলাম। এখন তাঁবুতে পর্যটকদের রাখার মাধ্যমে কিছু আয় হলে ভালোই হয়। গরুবাথান পর্যটন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা শ্যাম থাপা বলেন, পর্যটকরা যে ধরনের ব্যবস্থা পছন্দ করবেন, সেই ধরনের ব্যবস্থাই রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের পাহাড়ি এলাকাগুলির পথে ট্রেকিং অনাবিল আনন্দ এবং রোমাঞ্চ প্রদান করে। তা সকলেই উপভোগ করতে পারেন। পর্বতারোহী তথা অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমের সঙ্গে যুক্ত যুবক সুদেব রায় এবং স্বরূপ মিত্রও নতুনরূপে ট্রেকিং টুরিজমের সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ আশাবাদী। তাঁরা বলেন, করোনা সমস্ত পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে। এখন অনেকেই নিরিবিলি স্থানে থাকতে পছন্দ করছেন। সেখানে দূষণহীন প্রকৃতির মাঝে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে ট্রেকিং সকলের কাছেই আকর্ষণীয়। আমরা গাইড হিসেবে সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত  আছি।