সবুজের মাঝে ঝোঁক বাড়ছে সাইক্লিংয়ের

163

বিদেশ বসু, মালবাজার : সবুজ গালিচার মতো চা বাগানের বুকচেরা পথে সাঁইসাঁই করে চলছে সাইকেল। সাইকেল চালানোয় শামিল নানাবয়সিরা। তবে শুধুমাত্র চা বাগানই নয়, গ্রামাঞ্চল, চড়াই-উতরাই পথে পাহাড়ি এলাকা কিংবা বনাঞ্চলের কাছাকাছি পথে ইদানীং সাইকেল চালানোর প্রতি ঝোঁক যেন অনেকটাই বেড়েছে। শরীর চাঙ্গা রাখতে সাইকেল চালানোর গুরুত্ব অনেকটাই। সাইকেল দূষণহীন যান। তাছাড়া বর্তমানে করোনা আবহে অনেকটা অবসর সময়ও হাতে। রাস্তাও বেশ ফাঁকা। তাই অনেকেরই সাইকেল চালানোয় আগ্রহ বেড়েছে।

সবুজে ঘেরা মাল শহরে বর্তমানে বেশ কয়েকটি সাইকেল চালানোর দল তৈরি হয়েছে। অনেকে আবার একলাই সাইকেল চালাচ্ছেন। কেবলমাত্র মাল শহর নয়, শিলিগুড়ির মতো উত্তরের সর্ববৃহৎ শহর থেকে শুরু করে অন্যান্য এলাকাতেও সাইকেল চালানোর প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। মাল শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি কলোনির তরুণী অপর্ণা রায়, ক্যালটেক্স মোড় এলাকার রাজাবাবু দাসরা অনেকদিন ধরেই সাইকেল চালাচ্ছেন। তাঁরা আগে ১৩ এমটিবি ডুয়ার্স ট্রেল নামে একটি সাইকেল চালানোর সংগঠনও গড়ে তুলেছিলেন। সেসময় ১৩ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনটি তৈরি হয়েছিল। এখন আগ্রহীদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।  অপর্ণা বলেন, মূলত মাঝবয়সিরা এখন সাইকেল চালানোর প্রতি  আগ্রহ বেশি দেখাচ্ছেন। পরিশুদ্ধ বাতাসের মধ্যে সাইকেল চালানোর আনন্দই আলাদা। বর্তমানে অনেকেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দামের সাইকেলও কিনছেন। অনেকে আবার চিরাচরিত সাধারণ সাইকেলেও ব্যবহার করছেন।

- Advertisement -

মাল শহরের অনেকে আবার রবিবার সাইকেল চালানোর উদ্দেশ্যে সানডে সাইকেলার্স গঠন করেছিলেন। এক্ষেত্রে শহরের পঞ্চাশোর্ধ্ব রাজেন প্রধান, ত্রিশের কোঠায় পা দেওয়া পরিবেশপ্রেমী স্বরূপ মিত্র প্রমুখ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এখন তাতে গৃহবধূ, ছাত্রী, ব্যবসায়ী সকলেই শামিল। রাজেনবাবু বলেন, সকলের উৎসাহে এখন কেবলমাত্র রবিবার নয়, প্রতিদিন সকাল ও বিকেল সাইকেল চালাচ্ছি। স্বরূপ বলেন, উৎসাহীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে অনেকেই উৎসাহ দেখাচ্ছেন। এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে আমরা নিজেরাই কোনওদিন হয়তো যাইনি। সেই নিত্যনতুন এলাকাগুলিতে সাইকেল চালাচ্ছি। নিত্যনতুন স্থান দেখার প্রতি আকর্ষণও বাড়ছে।

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে বিভিন্ন মহল। মাল শহরের ক্যালটেক্স মোড়ের সাইকেল ব্যবসায়ী দীপক আগরওয়াল নিজেও নিয়মিত সাইকেল চালান। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই সাইকেল কিনতে আসছেন। অধিকাংশ খদ্দেরই গিয়ারযুক্ত সাইকেল পছন্দ করছেন। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে চাহিদামতো সাইকেলের জোগান দেওয়া কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। মাল পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য বিকাশ মোড় বলেন, সন্ধ্যা হলেই অন্তত ৮-১০ কিলোমিটার নিয়মিত সাইকেল চালাচ্ছি। মন সতেজ থাকছে। মাল শহরের চিকিৎসক প্রিয়দর্শী শৈলেশ বলেন, বাড়তি মেদ কমাতে এবং শরীর সতেজ রাখতে সাইকেল চালানো খুবই উপযোগী। অনেকের কম বয়সেও পায়ে হাড়ের ক্ষয় রোগ দেখা যেতে পারে। তা রোধ করতেও সাইকেল চালানো সহায়ক হতে পারে। তবে বর্তমানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সাইকেল চালাতে হবে। ভিড় এলাকাতে যাওয়া যাবে না।