গেমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা আদায়ের নতুন ফন্দি

326

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : অনলাইন পড়াশোনার জন্য এখন ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। এছাড়া আবদার মেটাতে ফোন কিনে দেওয়া তো আছেই। আর এই সুযোগে অনলাইন গেমিংয়ে মজে গিয়েছে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। অভিভাবক থেকে শিক্ষক এমনকি সমাজবিজ্ঞানীরা সকলেই এই আসক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও লকডাউনের বন্দিদশা এই প্রবণতা আরও বাড়িয়েছে বলেই মনে করেন সকলেই। বহু ছেলেমেয়ে এই অনলাইন গেমিংকে নিজেদের পকেট মানির সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে চলছে গেম কেনাবেচাও। শুধু তাই নয়, ভালো অবস্থায় থাকা গেমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। যার ফলে কিশোরদের মধ্যেও হ্যাকিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে।

এই ধরনের গেম খেলতে গেলে একটি আইডি দরকার হয়। মূলত ফেসবুক বা জিমেল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এরপর নানা মিশনের মধ্যে গেমে এগিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, মিশনগুলি পার হতে ছোট-বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। অনলাইনে পাড়া-পরিচিতের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিনজেলা, ভিনরাজ্য এমনকি ভিনদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলা হয়। অনেকটা যুদ্ধের কায়দায় কাউকে খেলার জন্য আমন্ত্রণ করার সুযোগও থাকে এই গেমগুলিতে। এই গেমে আসক্ত খুদেরা ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ, পেজ, ফোরামের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। যে যত বেশি মিশন পার হয়, তার আইডির দামও তত বাড়ে। এই কারণে একাধিক ফেসবুক প্রোফাইল বানিয়ে তার মাধ্যমে একাধিক নামে গেম খেলে রেটিং বাড়ানোর প্রবণতাও রয়েছে। এরপর ভালো দাম পেলেই ই-ওয়ালেটে আসে টাকা আর আইডি ও পাসওয়ার্ড হাতবদল হয়। এরপর প্রোফাইলের নাম বদলে ওই আইডি দিয়ে নতুন মালিক খেলা শুরু করে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, কয়ে হাজার থেকে শুরু করে লাখ-দুলাখেও এই আইডি হাতবদল হয়। আবার এই টাকার লোভেই এগিয়ে থাকা খেলোয়াড়ের আইডি হ্যাক করার প্রবণতাও বাড়ছে। সম্প্রতি ধূপগুড়ির বছর ষোলোর এক কিশোর নিজের আইডি হারিয়েছে। তার আইডির দাম উঠেছিল সাত হাজার টাকা। ঝাড়খণ্ডের এক হ্যাকার তার আইডি ফেরানোর বদলে পাঁচ হাজার টাকা চায়। এ প্রসঙ্গে সৌরভ পাল নামে ওই ছাত্র বলে, হ্যাক হওয়া আইডি দিয়ে আড়াই বছর ধরে গেমটা খেলছি। অনেকেই বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এখন সেটা হ্যাক করে একজন টাকা চাইছে। সে তার অ্যাকাউন্টের তথ্যও আমাকে পাঠিয়েছে। তবে আমার টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। সে জানিয়েছে, তার এক বন্ধুও এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে নিজের আইডি ছাড়িয়েছে।

এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন মনোবিদরা। শিশু মনোবিদ ডাঃ মনতোষ ভট্টাচার্য বলেন, বাচ্চাদের মোবাইল দিলে তার ব্যবহার কীভাবে হচ্ছে সেদিকে বাবা-মায়েরা নজর দিচ্ছেন না। এভাবে গেম কোনাবেচার ফলে তাদের মধ্যে অর্থের লোভের পাশাপাশি নানা সাইবার অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। সন্তান অনলাইনে কী করছে, অভিভাবকদের সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের সাইবার সেলের ওসি সুনন্দা সোনার বলেন, এভাবে নিজের আইডি অন্যকে দেওয়াটা বিপজ্জনক। কারণ সেই প্রোফাইল কোনও বেআইনি কাজ করলে, দায়টা মূল মালিককেই নিতে হবে। এছাড়া হ্যাকিং বা টাকা আদায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কমবয়সিদের এসব থেকে দূরে থাকাই ভালো। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নজর রাখতে হবে।