মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনাদের সম্মান জ্ঞাপন হিলিতে

374

হিলি: মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সেনাদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল ২০২ মাউন্টেন ব্রিগেড। শনিবার সকালে হিলি শহিদ বেদি প্রাঙ্গণে শহিদ দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক বোর্ড। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ২০২ মাউন্টেন ব্রিগেডের বিন্নাগুড়ি সেক্টরের সেনা আধিকারিক নায়েব সুবেদার রবীন্দ্রকুমার যাদব, ১৯৯ নম্বর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহকারী কমান্ডান্ট জগদীশ প্রসাদ, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, হিলি থানার ওসি প্রীতম সিং, হিলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভঙ্কর মাহাত, হিলি পঞ্চায়েত প্রধান নিভারানী বিশ্বাস প্রমুখ।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়েছিল ভারতীয় সেনা। মূল যুদ্ধটি হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলিতে। ভারত-বাংলাদেশের উন্মুক্ত সীমান্তে জোড় হয়েছিল হাজার হাজার ভারতীয় সেনা। সেনার একটা বড় অংশ বাংলাদেশের (বর্তমান) অনেকটা ভেতরে ঢুকে ব্যাংকারে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেই পাকিস্থানের আচমকা হামলায় একসঙ্গে শহিদ হন ৪০০ বেশি ভারতীয় সেনা। পরবর্তীতে পালটা আঘাত হেনে হাজারের অধিক পাকিস্থান সেনাকে খতম করে ভারতীয় সেনা। পরবর্তীতে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। এদিকে শহিদ ওই ভারতীয় সেনাদের হিলি রমানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দাহ করা হয়। একাত্তরের ইতিহাসে ওই দাহকে গণদাহ বলেই উল্লেখ করা হয়। তারপর থেকে ১২ ডিসেম্বর দিনটিকে হিলি যুদ্ধের শহিদ দিবস বলে স্মরণ করা হয়।

- Advertisement -

এদিন প্রতিবছরের মতো নিয়ম মেনে পালন করা হয় শহিদ দিবস। কোভিড পরিস্থিতি থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানটি করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২ মাউন্টেন ব্রিগেডের বিন্নাগুড়ি সেক্টরের সেনা আধিকারিক নায়েব সুবেদার রবীন্দ্রকুমার যাদব শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শহিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নীরবতা পালন করে স্যালুট জানান তিনি। এরপরে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পুষ্পার্ঘ্য দান করে শহিদের প্রণাম নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। করোনার জন্য এবছর নাচ, গান ইত্যাদি স্থগিত রাখেন আয়োজকরা।

২০২ মাউন্টেন ব্রিগেডের বিন্নাগুড়ি সেক্টরের সেনা আধিকারিক নাইব সুবেদার রবীন্দ্রকুমার যাদব বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে শহিদ সেনানীদের স্মরণ করা হল। তাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে কুর্নিশ করি আমরা। শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনাও করা হয়। জেলা অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক বোর্ডের সম্পাদক সত্যব্রত চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও শহিদ দিবস পালন করা হল। করোনা পরিস্থিতি থাকায় শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং ছোট অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হল।