‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ায় ইটাহারে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন, অভিযুক্ত তৃণমূল

181

রায়গঞ্জ: দলীয় পতাকা লাগাতে লাগাতে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়ার সময় ইটাহারে এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মৃত বিজেপি কর্মীর নাম বিশু দাস। ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পিরঠাকুরের মেলা চলছিল। মেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপির পতাকা লাগাচ্ছিলেন ওই ব্যাক্তি। তার সঙ্গে সঙ্গে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত ১০ জন দুষ্কৃতী তাঁর মাথায় মাথা ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তির চিৎকার চেঁচামেচিতে ছুটে আসে স্থানীয় বৃদ্ধা আকালী দাস। এরপর তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ির শোয়ার ঘরে ঢুকিয়ে তালা মেরে পালিয়ে যায় দুস্কৃতীরা। এরপর আকালী দাস মৃতের পরিবারকে সমস্ত ঘটনা জানালে অর্ধমৃত অবস্থায় ওই ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ চিকিৎসকদের বোর্ড গঠন করে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়।

- Advertisement -

৫৪ বছরের বিশু দাস পেশায় রাজমিস্ত্রি। বাড়ি ইটাহার থানার সুরুন (১) গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রান গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে স্ত্রী চন্দনা দাসের। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য জিতু দাস জানান, জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলায় কাউকে যদি হত্যা করা হয়, তাহলে মানুষ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারবে না। এর যদি আইনি কোনো ব্যবস্থা না হয় আমরা প্রয়োজন পড়লে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে যেতে বাধ্য হব। মৃতের ছেলে জিৎ দাস জানান, জয় শ্রীরাম বলায় তাঁর বাবাকে খুন করা হয়েছে। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই। মৃতের দাদা সুনিল দাসও জানান, জয় শ্রীরাম বলার জন্য তাঁর ভাইকে খুন করা হয়েছে। ইটাহারের বিজেপির প্রার্থী অমিত কুন্ডু জানান, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রায়গঞ্জের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগারওয়াল জানান, ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।