তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

109

রায়গঞ্জ: বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল হেমতাবাদ থানার বাঙাল বাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের গুটিন গ্রামে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন বিজেপি কর্মী লিয়াকত আলি (৫২) সহ ছয় জন। অভিযোগ, গুরুতর জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও দুষ্কৃতীরা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে হেমতাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখমদের নাম লিয়াকত আলি (৫২) মনোয়ারা খাতুন (৪০), আশেদা বেগম (৩৫), আতাউর রহমান (৬০), মোস্তাক আলী(৩৭) ও মামুদা বেগম(৫৫)।

আতাউর রহমানের অভিযোগ, বসতবাড়ির জমি ও পুকুর দখল করতে এসেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতা জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বাড়িও ভাঙচুর করা হয়। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে হেমতাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর সেখান থেকে মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।

- Advertisement -

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে। এদিকে, লিয়াকত আলির অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হেমতাবাদ থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে অভিযোগ জমা নেওয়া হয়নি। শনিবার বিকেলে মীমাংসা করার পরামর্শ দেন হেমতাবাদ থানার পুলিশ আধিকারিক। জখম মোস্তাক আলির অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। তাঁরা এখন আতঙ্কে রয়েছেন।

তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতা জহিরুল ইসলামের বক্তব্য, প্রথমে লিয়াকত আলিরাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার জন্য মারধর করেছেন। কোনও বহিরাগত আসেনি।

বিজেপির হেমতাবাদ কৃষাণ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, লিয়াকত আলি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দলের কর্মী। তৃণমূল নেতা জহিরুল ইসলাম সহ দশজন তৃণমূল দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করেছে, মারধর করছে। হেমতাবাদ থানার পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি।

যদিও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখর রায় জানান, এদিনের মারপিটের ঘটনায় তৃণমূল কোনওভাবেই জড়িত নয়। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করছে। এটা একান্তই পারিবারিক গন্ডগোল।‘

এবিষয়ে হেমতাবাদ থানার পুলিশ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।