বিজেপি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় তৃণমূল কর্মীর জেল হেপাজত

343

বর্ধমান: রড় ও লাঠি দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে এক বিজেপি কার্যকর্তার হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক তৃণমূল কর্মী। ধৃতের নাম শাজাহান সেখ ওরফে সাজু। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার ভেড়িলি গ্রামে ধৃতের বাড়ি। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, জামালপুর থানার ভেড়িলি গ্রামেই বাড়ি বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠের। প্রশাসন বুধবার লকডাউন ঘোষণা করায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দেবব্রত বাবু ভেড়িলি বাজারে সবজি কিনতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি আক্রান্ত হন। তারপর জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

- Advertisement -

এলাকার বিজেপি নেতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায় জানান, বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ দেবব্রত শেঠ ভেড়িলি বাজারে যেতেই ১০-১২ জন তৃণমূল কর্মী তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপর ওই এলাকার তৃণমূল কর্মী সেখ আসগর, সেখ হাবল, শাজাহান সেখ ওরফে সাজু, ফিরোজ শাহ, স্বপন কর্মকার, সুজিত মজুমদার ও নিলু ক্ষেত্রপাল তার উপর চড়াও হয়। তারা রড় , লাঠি ও বাঁশ নিয়ে দেবব্রত শেঠকে ব্যাপক মারধর করে। নির্মম ভাবে তৃণমূল কর্মীরা দেবব্রত শেঠের ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেয়। এছাড়াও দেবব্রত শেঠের গোটা শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত রয়েছে। রক্তাত অবস্থায় বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রতবাবু মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও তৃণমূল কর্মীরা তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেবব্রত শেঠকে উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক স্বস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। শারীরিক অবস্থা সংকটজনক থাকায় রাতেই বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আশুতোষ বাবু অভিযোগ, দেবব্রত শেঠকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ৭ জন তৃণমূল কর্মীর নামে থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ শুধু মাত্র লোক দেখানো শাজাহান সেখ ওরফে সাজুকে গ্রেপ্তার করে বলে তার অভিযোগ। একই অভিযোগ জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দীর। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বুধবার লকডান তাই বিজেপি কর্মীদের পথে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ দেবব্রত শেঠকে মারধরের ঘটনায় জড়িত সকল তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার না করলে বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূলের সন্ত্রাস প্রতিরোধে নামবে।

তার আরও অভিযোগ, এলাকায় বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানোর জন্য রবিবার তৃণমূলের লোকজনই ভেড়িলি এলাকার এক বিজেপি কর্মীকে মারধোর করেছিল। তা নিয়ে থানায় অভিযোগও জানানো হয়। সেদিনের ঘটনা নিয়ে পুলিশ তৃণমূলের কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করেনি। অথচ মঙ্গলবার রাতে বিজেপি কর্মী লক্ষীকান্ত পাকরেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বুধবার আদালতে পাঠায়। তার এখন জেলে ঠাঁই হয়েছে। ফের মঙ্গলবার রাতে একই এলাকার বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে তৃণমূলের সশস্ত্র বাহিনী নির্মম ভাবে মের হাত পা ভেঙে দিল।

পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমূদ খান বলেন, “বিজেপি সন্ত্রাস শুরু করলে তৃণমূল কর্মীরা বসে থাকবে না। ওদের যোগ্য দাওয়াই দেওয়া হবে।”