তৃণমূল-বিজেপির পরস্পর বিরোধী কর্মসূচিতে সরগরম ফালাকাটা

284

ফালাকাটা: বছরের শেষ রবিবার ফালাকাটায় জোরদার প্রচার সারল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। এদিন ফালাকাটা শহরের চুয়াখোলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ফালাকাটা ২ পশ্চিমাংশ অঞ্চল কমিটির ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই সম্মেলনে শাসক দলের ব্লক ও অঞ্চল স্তরের নেতারা বিজেপির বিরোধীতার পাশাপাশি সাংগঠনিক বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। এদিকে দক্ষিণ ফালাকাটায় মুজনাই নদীর তীরে ছটপুজোর ঘাটে একইদিনে বিজেপির বড় আকারে সভা হয়। এই এলাকার পাশেই তৃণমূলের প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারির বাড়ি। তাই এদিনের সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা, সাংসদ জন বারলা। দুই দলের দুই কর্মসূচিতেই মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

ফালাকাটার জেতা আসনকে ধরে রাখতে সব রকমের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা ডিসেম্বর মাসজুড়ে তপশিলি সংলাপ, দিদির ডায়ারি ও বঙ্গধ্বনি যাত্রা কর্মসূচি হয়েছে। আবার সরকারিভাবে অঞ্চলে অঞ্চলে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতেও ব্যাপক মানুষের জমায়েতে জনসংযোগ চালিয়েছে শাসক দল। তাই বছর শেষে এদিন ফালাকাটা ২ পশ্চিম অঞ্চল কমিটির বার্ষিক সম্মেলন হয় চুয়াখোলায়। এই সম্মেলনে দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের জয়লাভ করতে হবে। সেজন্যই এই কর্মী সম্মেলন৷’ তিনি দুয়ারে সরকার ও বঙ্গধ্বনি কর্মসূচির সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি সাংগঠনিক বিষয়ে কর্মীদের উদ্দেশ্যে নানা বার্তা তুলে ধরেন। গত লোকসভা নির্বাচনে ফালাকাটার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। সুভাষবাবু বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে মানুষ ভুল করেছে। এখন সবাই তা বুঝতে পারছে। আমি ১৩টি অঞ্চলে ঘুরে বুঝতে পেরেছি যে, অনেক বয়স্ক মানুষ আমাদের কাছে একটু সম্মান চান। কিন্তু অনেক সময় তা হচ্ছে না। আমাদের কর্মীদের মধ্যে কোথাও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব দূর করতে হবে। দলে সব স্তরের নেতাদেরই গুরুত্ব রয়েছে। সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি এনআরসি নিয়ে কর্মীদেরকে বিজেপির বিরুদ্ধে বেশি প্রচারের নির্দেশ দেন। এছাডাও এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন ব্লক সাধারণ সম্পাদক রতন সরকার, কিষাণ ও খেতমজদূর সংগঠনের ব্লক সভাপতি সুনীল রায়, সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান, যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে প্রমুখ।

- Advertisement -

এদিকে দক্ষিণ ফালাকাটায় বিজেপির ১৫ নম্বর মন্ডল কমিটি আয়োজিত সভায় বক্তারা তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘আর নয় অন্যায় কর্মসূচিতে জেলায় দু’শোরও বেশি পথ সভা জনসভায় পরিণত হয়েছে। মানুষের ভালোবাসা দেখেছি। এখন আমার বুথ সব থেকে মজবুত কর্মসূচি চলছে। তৃণমূল আমাদের অনেক অত্যাচার করেছে। তাই রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।’ এদিন যুবদের বেশি উপস্থিতি দেখে গঙ্গাপ্রসাদবাবু বলেন, ‘যুবরা পতাকা হাতে নিয়েছে। এবার বাংলার যুব সমাজ জেগেছে। কারণ এই বাংলায় কোনও কর্মসংস্থান নেই।’ দলের সাংসদ জন বারলা দু’বছরে কোনও কাজ করতে পারেননি বলে তৃণমূলের সরকারকে দায়ি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ডিএম,এসপিরা দেখা করেন না। আমাদের কাজ করতে দিচ্ছে না।’ তাই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আগামীতে বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসতেই ফালাকাটার বড়ডোবায় প্রথম সেতু তৈরির কাজ শুরু হবে। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে ফালাকাটা রেলওয়ে স্টেশনেও দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ চালু হবে।’ এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন, জেলা সহ সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল প্রমুখ।