দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, কাঠগড়ায় শাসক দল

75

আসানসোল: আসানসোলের বারাবনি পঞ্চায়েতের বারাবনি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে একটি দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়। বুধবার বারাবনি থানায় ঘটনার অভিযোগ করে প্রার্থী অরিজিৎ রায় এলাকায় পৌঁছোলে তাঁর গাড়ির উপরে হামলা চালায় বেশ কয়েকজন। ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়ি। হামলাকারীরা তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও, শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ বারাবনি গ্রামে বন্দনা গরাই নামে এক মহিলার বাড়ির দেওয়াল লিখছিলেন দুই বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ গড়াই ও তারক মণ্ডল। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের নাম লিখতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বাধা দেয়। সেই দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি হয়।

- Advertisement -

বিজেপি নেতৃত্বের  বক্তব্য,  কাজল বাউরি ও রাজেশ পাসোয়ান নামে দুই তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতী বোমা পিস্তল নিয়ে বিজেপির দুই কর্মীকে তাড়া করেন। তারা পালিয়ে সেখান থেকে নিজেদের প্রাণ বাঁচান৷ এই ঘটনার খবর পেয়ে বারাবনি থানার পুলিশ পৌঁছোলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। যে বাড়ির দেওয়াল লেখা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত, সেই বাড়ির মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞেসাবাদ করলে বাড়ির মালিক বন্দনা গরাই জানান, আমি কোনও দলকে নিজের থেকে দেওয়াল লিখতে বলিনি। আমাকে কেউ বলেছে দেওয়াল লিখব। আমি বলেছি হ্যাঁ লেখো। আমি তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি বুঝিনা।

বারাবনি মণ্ডল-১ সভাপতি সাধন রাউত বারাবনি থানা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাধন রাউত বলেন, ‘দলের কর্মীদের মারধর করার পর থানায় অভিযোগ করা হয়। আমি নিজে বারাবনি থানার ওসিকে জানাই যে, আমরা প্রার্থীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তারপর আমরা গ্রামে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করে।

অরিজিৎ রায় বলেন, ‘এভাবে গোটা বাংলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে শাসক দল আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।’ দলের উপরে এই ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করেন তৃণমূল কংগ্রেসের বারাবনি ব্লক সভাপতি অসিত সিং। তিনি বলেন, ‘আমার দল এতে জড়ান নয়। এটা বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। বারাবনি থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।